লাখো মানুষের ঢলে তেহরানে খামেনির জানাজা, উপস্থিত প্রেসিডেন্ট, স্পিকার ও তিন ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৫ জুলাই, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
লাখো মানুষের ঢলে তেহরানে খামেনির জানাজা, উপস্থিত প্রেসিডেন্ট, স্পিকার ও তিন ছেলে

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শোকের আবহ নেমে এসেছে রাজধানী তেহরানে। রোববার (৫ জুলাই) সকালে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত জানাজায় দেশটির প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের স্পিকার, বিচার বিভাগের প্রধান, খামেনির তিন ছেলে এবং শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ ও তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় সকাল ৮টায়, বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় জানাজার নামাজ শুরু হয়। ইমামতি করেন দেশটির জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। একই অনুষ্ঠানে খামেনির পরিবারের আরও চার সদস্যের জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শুরুর অনেক আগেই গ্র্যান্ড মোসাল্লার মূল প্রাঙ্গণ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আশপাশের সড়কেও মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি ইজেই এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি। খামেনির তিন ছেলে মাসুদ, মাইসাম ও মোস্তফাও জানাজায় অংশ নেন। তবে অসুস্থতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।

খামেনির জন্য ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন কর্মসূচি কয়েক দিন ধরে চলছে। রোববার ছিল সেই আনুষ্ঠানিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। তীব্র গরম উপেক্ষা করে ভোর থেকেই নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। শোকাহত মানুষের সুবিধার্থে পুরো প্রাঙ্গণে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা, ঠান্ডা পানীয় বিতরণ, মোবাইল মেডিকেল ইউনিট ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়।

কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে প্রধান শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কোম শহরে এবং বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। পরে খামেনির মরদেহ ইরানের উত্তর পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন মোজতবা আলী খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে টানা প্রায় ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে