বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বললেন, “আমরা নির্বাচন চেয়েছিলাম। তবে আমরা নির্বাচনের নামে ষড়যন্ত্র চাই নাই। ‘ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমরা নিন্দা জানাই। ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট, যাদের পরিচয় ছিল নিরপেক্ষ, দল নিরপেক্ষ। তারাও এই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল। এটা তারাই স্বীকার করেছে যে, ষড়যন্ত্র করে ১১ দলকে হারানো হয়েছে।’’
রাজধানীতে ‘গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’’ শীর্ষক সেমিনারে যোগ দিয়ে আজ বুধবার তিনি এমন কথা উল্লেখ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘‘তারপরেও এই রায় কেন মেনে নিলাম? এত বছর পরে এই নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের ফসল হিসেবে যদি আমরা সেদিন এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করতাম- তাহলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো কেউ জানে না। ১১ দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু সাথে সাথে ১১ দল এটাও বলেছে, নির্বাচনে এই ষড়যন্ত্রের ফল মেনে নিলেও আমরা গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করতে দেবো না।’’
তিনি বলেন, ‘‘এ পর্যন্ত ১০ থেকে ১১ বার আমার কাছে ফরমাল প্রপোজাল এসেছে যে, আসেন আমরা সংস্কার করার জন্য, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা সংশোধন কমিশন করি। আমাদের পরিষ্কার জবাব- সংশোধনের জন্য কোনও কমিশন লাগে না। সংশোধনের জন্য সরকারি দল ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিল আনতে পারে। বিরোধী দলও আনতে পারে। সেই বিল আসবে, বেটিং এ যাবে। আবার ফিরে আসবে। তারপরে আলোচনা হবে। আলোচনার পর ভোটে যাবে।”
তিনি আরও যোগ করে বলেন, “ভোটে যদি এটা গ্রহণযোগ্য হয়- তাইলে পাস হয়ে যাবে। এটার জন্য কোনও কমিশন লাগে না। এখানে সংশোধনী কমিশন করার জন্য গণভোট হয় নাই। গণভোট হয়েছে- দেশের পচা রাজনীতির আমূল পরিবর্তন সাধনের জন্য।’’
এসময় জনগণের অধিকার নিয়ে সরকারকে ছাড় না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে দেশকে নতুন রাজনৈতিক সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বিএনপি- এমন অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, নতুন করে রক্তপাত এড়াতে রায় বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।