পানের বরজে কীটনাশক প্রয়োগ করে ২ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ

এফএনএস (বাগমারা, রাজশাহী) | প্রকাশ: ১০ জুলাই, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
পানের বরজে কীটনাশক প্রয়োগ করে ২ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের বীরকয়া গ্রামের কৃষক দেলসাদ আলীর সযত্নে গড়ে তোলা পান বরজে দুর্বৃত্তদের কীটনাশক প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার অধিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার ভোরে বরজে পান ভাঙতে গিয়ে দেলসাদ আলী দেখতে পান, মাত্র ১৪ দিন আগে বাঁধা তার পান বরজের অধিকাংশ পানের লতা নেতিয়ে পড়েছে। কাছে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, পান গাছে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বরজের দুটি পিলাইয়ের পানের ডগাও (পড়) কেটে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক দেলসাদ আলী জানান, ৬ কাঠা জমির ওপর ৩ পণ ১০ গণ্ডা লগড়ের এই পান বরজটি তিনি অনেক স্বপ্ন নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন। সারাবছর পান বিক্রি করে পরিবারের খরচ চালানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু এক রাতের ব্যবধানে সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বরজটি পানে পরিপূর্ণ ছিল। আর কয়েকদিন পর থেকেই নিয়মিত পান বিক্রি শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে কীটনাশক দিয়ে পুরো বরজটি নষ্ট করে দিয়েছে। এতে আমার প্রায় দুই লাখ টাকার অধিক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন বরজটি দেখতে ভিড় করেন। গ্রামের মানুষের ভাষ্য, এটি এলাকার অন্যতম ভালো ও পরিচর্যায় থাকা পান বরজ ছিল। এমন একটি ফসলের ওপর হামলার ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে দেলসাদ আলীর সঙ্গে কয়েকজন বখাটে যুবকের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর থেকে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরেই কেউ পান বরজে কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসী। তবে বিষয়টি তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। স্থানীয়রা এ ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে একটি কৃষকের বছরের পরিশ্রম ও জীবিকার উৎস ধ্বংস করে দেওয়া অত্যন্ত অমানবিক। দেলসাদ আলী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করবেন। এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে