বাধ্যতামূলক মেডিয়েশনে বদলে যাচ্ছে সুনামগঞ্জের বিরোধ নিষ্পত্তির চিত্র

এফএনএস (একে কুদরত পাশা; দিরাই, সুনামগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৩ জুলাই, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
বাধ্যতামূলক মেডিয়েশনে বদলে যাচ্ছে সুনামগঞ্জের বিরোধ নিষ্পত্তির চিত্র

"সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ"-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন চালুর পর বিরোধ নিষ্পত্তিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মো. জোনাইদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক প্রি-কেস মেডিয়েশন কার্যক্রম চালুর পর সুনামগঞ্জে বিরোধ নিষ্পত্তিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। মামলা দায়েরের আগেই বিরোধের পক্ষগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ পাচ্ছেন, ফলে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কও অটুট থাকছে। এ কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে যেখানে প্রি-কেস আবেদন ছিল ৭৯টি, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৬টিতে। একই সময়ে মোট বিরোধ নিষ্পত্তির সংখ্যা ১৮৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৩২টি। সরকারি আইনগত সহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যা ১৫৭ জন থেকে বেড়ে ৭৪৬ জনে উন্নীত হয়েছে। আপোষের মাধ্যমে আদায় হওয়া অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৯০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের সংখ্যা ৩টি থেকে বেড়ে ৪৬টিতে এবং মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৩৯ জন থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫১৩ জনে উন্নীত হয়েছে। মো. জোনাইদ বলেন, লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে সম্পাদিত আপোষনামা আদালতের ডিক্রির সমমর্যাদা লাভ করে। ফলে এটি শুধু একটি সমঝোতা নয়, বরং আইনগতভাবে কার্যকর একটি দলিল। কোনো পক্ষ চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে অপর পক্ষ আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রাখেন। পাশাপাশি লিগ্যাল এইড অফিসারের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা থাকায় মীমাংসা প্রক্রিয়ায় পক্ষগুলোর স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে।

তিনি আরও বলেন, বাধ্যতামূলক মেডিয়েশনের ফলে আদালতে নতুন মামলার চাপ কমছে, দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত হচ্ছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। এটি শুধু বিরোধ নিষ্পত্তির একটি পদ্ধতি নয়, বরং সামাজিক শান্তি ও টেকসই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কার্যকর মাধ্যম। গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা ও বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক সংবাদ প্রকাশ, আপোষনামার আইনি মর্যাদা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা এবং সফল মীমাংসার মানবিক গল্প তুলে ধরার আহ্বান জানান। সভার শেষে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। মতবিনিময় সভায় সুনামগঞ্জে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে