একসময় উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আস্থার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতাল। আর এ হাসপাতালটিকে ঘিরে সম্প্রতি নানা অভিযোগ সামনে আসছে। এমন অভিযোগ করেন কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা। তাদের দাবি, অতিরিক্ত বিল আদায়, অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত রোগী ছাড়পত্রে বিলম্ব, চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগী ও স্বজনদের অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে হাসপাতালটির সুনাম প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, নির্ধারিত চিকিৎসা ব্যয়ের বাইরে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। বিলের খাত ও ব্যয়ের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা না পাওয়ায় অনেক রোগী ও স্বজনের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বিল পরিশোধের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কিছু ক্ষেত্রে রোগী ছাড়পত্র পেতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা এই প্রতিবেদকের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রোগী ও স্বজনদের কয়েকজন দাবি করেন, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, রোগীর অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জানানো হয় না এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু বা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক ছিল। দূরদূরান্ত থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে এখানে আসতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেবার মান, রোগীবান্ধব আচরণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সেই আস্থায় ধাক্কা লাগছে বলে তারা মনে করছেন।
সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা জনসম্মুখে তুলে ধরা উচিত। একই সঙ্গে রোগীসেবা, বিল ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসকদের আচরণ এবং অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা এক নারীর সন্তান মারা যান। হাসপাতালের বেঁধে দেয়া বিল অসহায় ওই নারী পরিশোধ করতে না পারায় তাকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এদিকে মৃত সন্তানকে দাফন করে পরিবার। অথচ সন্তানের সাথে জনমদুখী মায়ের শেষ দেখাটুকু করতে দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সাংবাদিকদের সহায়তায় ওই মা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাত থেকে ছাড়া পায়। এটি এলাকার মানুষের কাছে নিন্দনীয় ঘটনায় পরিনত হয়।
এ বিষয়ে ল্যাম্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।