অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও একটি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত হলে শুধু সেই বোর্ডে পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রংপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা বৈষম্যহীন পরীক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিতকরণ, অভিন্ন প্রশ্নে অভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রংপুর জিলা স্কুলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে রংপুরের বিভিন্ন কলেজের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জুলাই চত্বর প্রদক্ষিণ করেন। পরে ইউটার্ন নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান অনিক, মোছা. আফ্রিদা জাহিন এবং কারমাইকেল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোছা. নুহাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানালেও সাম্প্রতিক সময়ে একটি বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রেখে অন্য বোর্ডে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হলে সিদ্ধান্তও অভিন্ন হওয়া উচিত বলে তারা দাবি করেন।
তারা আরও উল্লেখ করেন, পরীক্ষার ঠিক আগে প্রশ্নপত্রের ধরন বা প্যাটার্ন পরিবর্তন করায় শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে চাপে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করে প্রস্তুতি নেওয়ার পর আকস্মিক পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের জন্য অযৌক্তিক ও ক্ষতিকর বলে তারা মনে করেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষা পুনর্বিবেচনারও দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, ওই দিনের পরীক্ষায় আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষাটি পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এছাড়া তারা দাবি করেন, দেশের কোনো একটি শিক্ষা বোর্ডে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে পরীক্ষা স্থগিত হলে একই প্রশ্নপত্রের কারণে সারা দেশের পরীক্ষাও একযোগে স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা, প্রশ্নপত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বৈষম্যহীন পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে আরও ছিল, অভিন্ন প্রশ্নে অভিন্ন সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা, প্রশ্নপত্রের পূর্বনির্ধারিত প্যাটার্ন বজায় রাখা এবং এক দফা এক দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
স্মারকলিপির শেষাংশে শিক্ষার্থীরা বলেন, হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, মানসিক চাপ ও শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।