অসমীয়া চলচ্চিত্রাঙ্গনের প্রবীণ অভিনেত্রী পূরবী শর্মা আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় গুয়াহাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তার মৃত্যুতে অসমীয়া চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হন পূরবী শর্মা। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ গুয়াহাটির শান্তিপুরে নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়, যেখানে পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন।
অসমীয়া চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন পূরবী শর্মা। অভিনয়ের স্বাভাবিকতা, সংযত অভিব্যক্তি এবং চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করার দক্ষতায় তিনি কয়েক দশক ধরে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেন। ‘আজলি নবৌ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার রুপালি পর্দায় অভিষেক হয়। অভিনয়জীবনের শুরুর দিকেই ‘রাগিণী’ চলচ্চিত্র জাতীয় পুরস্কার অর্জন করলে তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ হয়।
পরবর্তী সময়ে ‘পরভাত’সহ একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি অসমীয়া সিনেমায় নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। ছোট পর্দাতেও সমান জনপ্রিয় ছিলেন এই অভিনেত্রী। ‘গেটওয়ে’ ধারাবাহিকে তার অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়ায়। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন, দুই মাধ্যমেই তার অভিনয় একাধিক প্রজন্মের দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।
ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রখ্যাত অভিনেতা কুলদা কুমার ভট্টাচার্যের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন। পাশাপাশি ‘ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস অসমীয়া’ এবং ‘প্রাগ সিনে অ্যাওয়ার্ডস’সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
তরুণ দর্শকদের কাছেও নতুনভাবে পরিচিতি পান তিনি। সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের সঙ্গে ‘জুয়া বোসোরে’ শিরোনামের একটি রোমান্টিক মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করে তিনি নতুন প্রজন্মের প্রশংসা অর্জন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে পূরবী শর্মা ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা, লেখক ও নির্মাতা তপন দাসের সহধর্মিণী। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই শিল্পীর মৃত্যু অসমীয়া চলচ্চিত্রাঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকল।