মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইরান। এরই মধ্যে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। হামলায় স্থাপনাটিতে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, দেশটির জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একাধিকবার হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ওই স্থাপনা খালি করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনাকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি পদক্ষেপ নেয় কর্তৃপক্ষ।
দেশটির দমকল বাহিনী জানিয়েছে, হামলার পর দুটি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সময় কয়েকজন দমকলকর্মী আহত হন। পরে তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রমের সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যেতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন অভিযান অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
ইরানের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে গেলে ইরানের প্রতিক্রিয়া সীমিত থাকবে না। তাঁর দাবি, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা