আশাশুনি উপজেলার গোদাড়ায় মৃত মনতেজ পাড়ের পুত্র গোলাম রসুল দিং পরদাদা, দাদা ও পিতার আমল থেকে বংশ পরম্পরায় উপজেলার গোদাড়া গ্রামে বসবাস করে আসছেন। ভিটেবাড়ি থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করতে নানা ষড়যন্ত্র ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নাজেহাল করে তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে মৃত সোলায়মান সরদারের ছেলে রুহুল আমিন সরদারের বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন মামলার সুত্র ও গোলাম রসুল জানান, গোদাড়া মৌজায় এসএ ১০১ খং লিখিত ১.৩৮ একর ভূমি বাবদ এসএ রেকর্ডীয় মালিক মোজাহার পাড়ের নামে ১ আনাংশে স্বত্ত্বদখলীয় জমা থাকে। মোজাহার পাড় জমিতে স্বত্ত্ববান ও দখলীকার থাকা অবস্থায় পৌত্র মনতেজ আলী পাড় বরাবর ২৬/১১/৬১ তাং ৩৯৯৬ নং রেজিঃ দানপত্র দলিল মূলে ০.৬৯ একর ও বে-নালিশী দাগে ১.৩১৫০ একর ভূমি দান করেন। মোনতেজ আলী তার ৪ পুত্রদের বরাবর ১৪/৬/৯৪ তাং ২৮৩০ নং রেজিঃ দানপত্র মূলে ০.০৮ একর দান করেন এবং বাকী ভূমিতে স্বত্ত্ববান থাকাবস্থায় ৪ পুত্র, ৫ কন্যা ও ২ স্ত্রীকে ওয়ারেশ রেখে ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে এক স্ত্রী ছায়রা খাতুন উক্ত ওয়ারেশ রেখে মারা যান। কিন্তু ভ্রমাত্মক ভাবে ৩৩৩ নং খং গোলজার বিবি ও ৫৯৫ খং রফিকুল ইসলামের নামে রেকর্ড প্রকাশিত হলে বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে এলএসটি ১০১৫/১৭ মামলা করা হলে বিজ্ঞ আদালত দো-তরফা সূত্রে ২৬/৬/২২ তাং রায় ও ৩০/৬/২২ তাং ডিগ্রী প্রদান এবং ১৩/০৮/২৩ তাং ৯৫০ নং স্মারকে এসি (ল্যান্ড) আশাশুনিকে বাদীগণকে রেকর্ড প্রদান করে খতিয়ান সংশোধনের আদেশ দেন। এসি ল্যান্ড বিআরএস ৩৩৩ খং ০.৫০ ও ৫৯৫ খং ০.১৭ একর জমি ৯১৬ নং খারিজ খং রেকর্ড প্রস্তুত করেন। তখন তারা (গোলাম রসুল দিং) ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ৯৩৫ নং হোল্ডিং খুলে খাজনাদি পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ নিম্ন আদালতের রায় ও ডিগ্রীর প্রতি সংক্ষুব্ধ হয়ে ২য় জেলা জজ আদালতে ল্যান্ড আপিল ৪০/২৪ মামলা করেন। ৩/১১/২৫ তাং দো-তরফা সূত্রে শুনানী অন্তে আপীলটি না মঞ্জুর করে নিম্ন আদালতের রায় ও ডিগ্রী বহাল রাখা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় পক্ষ জমি জবর দখল করার পায়তারা করে আসছে এবং ২০২৫ সালের ২০ মে জমিতে অবৈধ প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধোর করতে উদ্দ্যত হয়। সুযোগ পেলে জমি দখল করে ঘরবাড়ী নির্মাণ করবো, যেখানে পাব মান অপমান করবসহ বিভিন্ন হুমকী প্রদর্শন করে চলে যায়। কিন্তু ষড়যন্ত্র থামেনি। তারা বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালত ২য় আদালত সাতক্ষীরায় বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল এর এলএস ১০১৫/১৭ মামলার রায় বিজ্ঞ আদালতকে গোপন করে ১৭৫/২৫ মামলা করেন। কিন্তু নালিশী জমির পরিচয়, বর্ননা, মিথ্যা চৌহদ্দি দেখান হয়। জমিতে বিবাদী (গোলাম রসুল দিং) এসএ ১০১ খতিয়ানে হাল ২২২৯ দাগে ঘরবাড়ি, পুকুর, গাছগাছালী সবকিছু সহকারে বসবাস করে আসলেও তা অস্বীকার করে বাদীপক্ষ সেখানে পাকা বিল্ডিং, অফিস, বৃক্ষাদি আছে বলে উল্লেখ করেন, যা আদৌ সত্য নয় বলে বিজ্ঞ আদালতে লিখিত আপত্তি করেছেন বিবাদীপক্ষ।
গোলাম রসুল দিং অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ বারবার তাদেরকে নানা ষড়যন্ত্র ও হুমকী ধামকী দেখিয়ে আসছে। জমিতে জবর দখলে আসতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা অসহায় গরীব বিধায় তাদের ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাদের অগ্রাহ্য আস্ফালন হজম করে যাচ্ছি। আমরা এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, জন প্রতিনিধি, প্রশাসন ও আইন আদালতের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।