৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন

জিহাদ হত্যায় জড়িত সন্দেহে সুজন গ্রেপ্তার

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : | প্রকাশ: ২১ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
জিহাদ হত্যায় জড়িত সন্দেহে সুজন গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কিশোর জিহাদ মিয়া (১৫) হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে সুজন খন্দকার (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছেন সরাইল থানা পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় সদর ইউনিয়নের পূর্ব কুট্রাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুজন কুট্রাপাড়া গ্রামের জয়নাল খন্দকারের ছেলে। তার বিরূদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মো. বখতিয়ার। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১০ জুলাই রাতে পিতা আজগর আলীর মাছ ধরার কাজে সহায়তা করতে বাড়ি থেকে জাফর খালের দিকে রওনা দেয় কিশোর জিহাদ। জিহাদদের বাড়িও কুট্রাপাড়া গ্রামের উত্তর পাড়ায়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্র্যাক অফিস সংলগ্ন জায়গায় যাওয়ার পর জিহাদের উপর হামলা করে একদল দূর্বৃত্ত। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জিহাদকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করে। পরে মহাসড়কের পাশের একটি ঝোঁপঝাঁড়ে জিহাদের লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। ঘড়ির কাটায় ১০টার কাছাকাছি বাড়ি ফিরছে না জিহাদ। পিতাসহ স্বজনরা জিহাদকে খুঁজতে বের হন। রাত ১০টার দিকে পায়ের সেন্ডেল ও রক্তের সূত্র ধরে ওই ঝোঁপঝাঁড়ে জিহাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। সরাইল থানা পুলিশ জিহাদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। ১২ জুলাই রোববার তার পিতা আজগর আলী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে সরাইল থানায় একটি মামলা করেছেন। গত ১৯ জুলাই রোববার খুনি সনাক্ত গ্রেপ্তার আর বিচার নিশ্চিত করণের দাবীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মানববন্ধন ও অবরোধ করেন কুট্রাপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। দ্রূততম সময়ের মধ্যে আসামী গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করিয়েছেন ইউএনও ও ওসি। সোমবার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা কুট্রাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে জিহাদ হত্যার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে সুজন খন্দকার নামের যুবককে গ্রেপ্তার করেছেন। সুজনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যে উৎঘাটনের জন্য আদালতে ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানী শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুরের সিদ্ধান্ত দিবেন। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া সন্ধিগ্ধ আসামী সুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা নির্দোষ কাউকে হয়রানি করতে চাই না। প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে আমরা কাজ করছি। তাই সুজনকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করেছি। দ্রূততম সময়ের মধ্যেই খুনি চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে