সিজেপি বিক্ষোভে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ: দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রকে নোটিশ হাইকোর্টের

এফএনএস অনলাইন ডেস্ক: | প্রকাশ: ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
সিজেপি বিক্ষোভে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ: দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রকে নোটিশ হাইকোর্টের
ছবি, সংগৃহীত

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের ‘নির্মম বলপ্রয়োগ’-এর অভিযোগে দায়ের হওয়া একাধিক জনস্বার্থ মামলায় (পিআইএল) দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ জারি করেছে। পাশাপাশি ঘটনাসংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওগ্রাফি ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার প্রধান বিচারপতি ডি. কে. উপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানির সময় আবেদনকারীদের আইনজীবী ও অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) এস. রাজুর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

আবেদনকারীদের অভিযোগ

আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এন. হরিহরণ ও বিকাশ সিং বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ ও সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়েই আন্দোলনকারীরা পুলিশের অমানবিক আচরণের শিকার হন।

হরিহরণ আদালতে বলেন, পুলিশ নারীদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে লাঠিপেটা করেছে, নারী বিক্ষোভকারীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে এবং ৯০ জনের বেশি আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশেরও কিছু সদস্য আহত হয়ে থাকতে পারেন, তবে ঘটনাস্থলে কী ঘটেছে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আরেক আইনজীবী গোপাল শঙ্করণারায়ণন দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বশেষ বিকল্প হওয়ার কথা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু পুলিশ সদস্য পরিচয়পত্র ছাড়াই সাধারণ পোশাকে অভিযানে অংশ নেন এবং নখ লাগানো লাঠি ব্যবহার করা হয়। এসব অভিযোগের সমর্থনে তাদের কাছে ১১০টি ভিডিও রয়েছে বলেও আদালতকে জানান তিনি।

পুলিশের পাল্টা বক্তব্য

দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের পক্ষে এএসজি এস. রাজু বলেন, আবেদনকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যাচাইবিহীন ভিডিওর ওপর নির্ভর করছেন। তার দাবি, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথরে বহু পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে রাজনৈতিক দল ও বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। আবেদনকারীরা যদি কোনো অপরাধের অভিযোগ করেন, তবে তাদের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে এফআইআর দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তার মতে, এসব জনস্বার্থ মামলা মূলত ‘প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে’ করা হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

এএসজির বক্তব্যে প্রশ্ন তুলে প্রধান বিচারপতি বলেন, “কীভাবে বলছেন এটি প্রচারের জন্য করা মামলা?”

তিনি আরও বলেন, যদি এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা না হয়ে থাকে, তাহলে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আলাদাভাবে এফআইআর করার প্রত্যাশা করা যায় না। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, ভিডিওগুলোর সত্যতা এখনই যাচাই করা সম্ভব নয়, তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে হবে।

আদালতের নির্দেশ

শুনানি শেষে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি পুলিশকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেয়।

এছাড়া মামলায় উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওগ্রাফি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক রেকর্ড পুলিশি এসওপি অনুযায়ী সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র: এনডি টিভি