বরিশাল নগরীতে অবৈধ রেনুপোনাবাহী ট্রাক আটকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার চিংড়ির রেনুপোনা লুট করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে সদ্য ঘোষিত বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন মৃধা ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে। পুরো ঘটনার সংবাদ ধামাচাঁপা দিতে যুবদলকর্মী ও কথিত এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৬০ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। গত ১৬ জুলাই বরিশাল নগরীর চৌমাথা এলাকায় ঘটা এই অপরাধমূলক ঘটনার একটি ১৫ সেকেন্ডের অডিও বার্তাসহ কিছু ভিডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ চিংড়ির রেনুপোনা ভোলা, চরফ্যাশন, পটুয়াখালী, কুয়াকাটা, বরগুনা, মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদী থেকে অবৈধভাবে সংগৃহীত চিংড়ির রেনুপোনা ট্রাকে করে বাগেরহাট ও খুলনার উদ্দেশ্যে পাচার হচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিনের ন্যায় গত ১৬ জুলাই ট্রাকটি বরিশাল নগরীর চৌমাথা পৌঁছলে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন মৃধার অনুসারীরা সেটি আটকে দেয়। গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রতি দিয়ে রেনুপোনা ব্যবসায়ীদের কাছে তাৎক্ষণিক মেসেজ পাঠিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সদস্য সচিব আল আমিন মৃধা।
অপরদিকে ঘটনাটি ধামাচাঁপা দিতে ও সংবাদ প্রকাশ না করার শর্তে নথুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা যুবদল কর্মী মো. রাশেদ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে রেনুপোনা পাচারচক্রের সন্দেহ হলে তারা দাবীকৃত পাঁচ লাখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপরই আল আমিন ও তার সহযোগিরা ট্রাকে থাকা ৩০ লাখ টাকা মূল্যের চিংড়ির রেনুপোনা নিজেদের কব্জায় নিয়ে বাহিরে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাত করে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রেনুপোনাবিহীন পরিত্যক্ত ট্রাকটি উদ্ধার করে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে বরিশাল জেলার বিভিন্নস্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, নিরিহ ঠিকাদার এবং ব্যবসায়ীদের টার্গেট বানিয়ে আসছে এই সিন্ডিকেট। ব্লাকমেইল ও রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে চাঁদা আদায় করাই এদের মূল কৌশল।
অনুসন্ধানে এই চাঁদাবাজ ও লুটেরা চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রধান ১০ জনের নাম-পরিচয় সামনে এসেছে। তার হলেন, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন মৃধা, বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহবায়ক যুবায়ের হোসেন, বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. টিটু, কড়াপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা সিরাজুল ইসলাম, উজিরপুর উপজেলা ছাত্রদল নেতা মো. নাঈম ও রনি, বরিশাল নগরীর জিয়া সড়ক এলাকার বাসিন্দা ছাত্রদল কর্মী মো. শাহিন হোসেন রকি, হাতেম আলী কলেজ এলাকার বাসিন্দা মো. খালিদ হোসেন, উৎকোচ গ্রহণকারী নথুল্লাবাদ এলাকার যুবদল কর্মী মো. রাশেদ এবং কাশিপুরের চরকাউয়া এলাকার যুবদল কর্মী রাজ্জাক মিলন।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন মৃধা বলেন, বিষয়টি এমন নয়, আমরা ওই সময় মোটরসাইকেল বহর নিয়ে যাচ্ছিলাম, আমাদের ওভারটেক করে মোটরসাইকেল চাঁপিয়ে দেয় ট্রাকটি। পরবর্তীতে থামিয়ে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করে চলে আসি। এরপর কি হয়েছে আমার জানা নেই।
অপরদিকে, পরিত্যক্ত ট্রাক উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে রেনুপোনা লুট ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত অডিও বার্তা এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যাদির ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।