প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথমবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, পাল্টা জবাব রাহুল গান্ধী ও সিজেপির

এফএনএস অনলাইন ডেস্ক: | প্রকাশ: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩০ এএম
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথমবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, পাল্টা জবাব রাহুল গান্ধী ও সিজেপির
ছবি, সংগৃহীত

দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সংসদে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি প্রশ্নফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই।”

তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মোদি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

রাহুল গান্ধীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরপরই লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, “তরুণদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন আপনিই। আপনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস হতে দিয়েছেন এবং এর জন্য দায়ীদের রক্ষা করেছেন।”

রাহুল গান্ধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। সেগুলো হলো-

১. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ;

২. শিক্ষার্থীদের কাছে সরকারের ক্ষমা প্রার্থনা;

৩. আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

এর আগে বুধবার তিনি দাবি করেছিলেন, গত ১০ বছরে দেশে ১৫০টিরও বেশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এসব মামলায় একজনেরও দণ্ড হয়নি।

সিজেপির প্রতিক্রিয়া

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-ও তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।

এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সংগঠনটি জানায়, “ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।”

সংসদে অচলাবস্থা

প্রশ্নফাঁস ইস্যু এবং দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশের অভিযানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধী দলগুলো।

একই সঙ্গে তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে সংসদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।

সরকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় সম্মত হলেও বিরোধীদের অভিযোগ, পদত্যাগের দাবি তুলে সংসদের কার্যক্রম বিলম্বিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া এ বিষয়ে অর্থবহ আলোচনা সম্ভব নয়।

সূত্র: এনডিটিভি

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে