রাজশাহীর তানোরে কয়েক বছর ধরে বংশীয় দাপটে প্রভাবশালীরা এলাকায় রামরাজত্ব চালাচ্ছেন মামলাবাজ ভূমিদস্যু বাহিনী। এতে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের মালশিরা গ্রামে এমন রাজত্ব চালাতে তারা। ফলে এই বাহিনী স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এলাকার খাঁস জমি ও পুকুর দখল ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানার সম্পত্তি দখল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাদের কার্যক্রমে কেউ প্রতিবাদ বা মুখ খুললে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। এরা হলেন- ওই এলাকার হাসান মোল্লা, মাসুদ রানা, হিমেল ও শাওন ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন।
সম্প্রতি তাদের এমন সন্ত্রাসি কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক রাজু আহমেদ প্রতিবেদন করায় তাকে বিভিন্ন ঘটনায় জড়িয়ে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিক। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সাতটি পরিবার আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে দীর্ঘদিনের জমি দখল, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তারা বিভিন্ন নিরীহ মানুষের পৈতৃক ও ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। প্রতিবাদ করলেই মামলা ও হামলা কিংবা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে মালশিরা গ্রামের একাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
ভুুক্তভোগীদের মধ্যে আমেনা বিবি, মোমেনা বিবি এবং আরও সাতটি পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করেছে ওই মামলাবাজ প্রভাবশালী বাহিনী। জমি ফেরৎ চাইলে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বছরের পর বছর পুলিশ ও আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে গিয়ে তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
ভুক্তভোগী আমেনা বিবি আরও বলেন, "আমাদের পৈতৃক জমি জোর করে দখল করে নিয়েছে ওই বাহিনী। আমরা প্রতিবাদ করায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। থানায় ও আদালতে দৌড়াতে দৌড়াতে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। কিন্তু এখনো আমাদের জমি ফেরত পাইনি।
মোমেনা বিবিও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের আত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তারা ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান পাননি।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযুক্তরা শুধু জমি দখলেই সীমাবদ্ধ থাকেন না; কেউ প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। এতে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিক রাজু আহমেদের নামেও নানা ঘটনায় জড়িয়ে তাকে হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়েও তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। এ ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে মালশিরা গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের দাবি, দীর্ঘ ৩০ বছরের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও হয়রানির অবসান ঘটাতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের জমি উদ্ধার, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাসান মোল্লা, মাসুদ রানা, হিমেল ও শাওনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।