জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সিলেটে সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে খেলাফত মজলিস। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নগরীর রেজিস্ট্রারী মাঠে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, শাপলা ও জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং সিলেটের উন্নয়নে বৈষম্য দূর করার দাবি জানানো হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, অতীতে সিলেটের সঙ্গে দীর্ঘদিন বৈষম্য করা হয়েছে। ফলে উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠন। তাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সিলেটবাসী আর কোনো ধরনের বৈষম্য দেখতে চায় না।
তিনি ঢাকা-সিলেট রেললাইন আধুনিকায়ন, ছয় লেন সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং সিলেটের গ্যাস দিয়ে স্থানীয় আবাসিক গ্রাহকদের চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়নের দিক থেকে এ অঞ্চল পিছিয়ে থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সিলেটের উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মুফতি আবুল হাসান আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ছিল বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন। তিনি বলেন, দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং সব ধরনের আধিপত্যবাদ মোকাবিলায় ব্যর্থ হলে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার প্রতি অবিচার করা হবে। সুখী-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেন, দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত এবং গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অযথা বিলম্ব করা হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আবদুল হান্নানও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা দিলওয়ার হোসাইন ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা শিব্বির আহমদের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।