নতুনবাজারে গ্যাস বিস্ফোরণ, ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে মামা-ভাগনির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৪ জুলাই, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
নতুনবাজারে গ্যাস বিস্ফোরণ, ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে মামা-ভাগনির মৃত্যু

রাজধানীর ভাটারার নতুনবাজারে গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেছেন মামা ও ভাগনি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে আট বছরের হাফছার মৃত্যুর পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে মারা যান ২৪ বছর বয়সী শাহিন। একই ঘটনায় শাহিনের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে নতুনবাজারের ১০০ ফিট এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার বাসায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের ভাষ্য, হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর ঘরে আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরণের ধাক্কায় ঘরের একটি দেয়ালও ধসে পড়ে।

আশপাশের লোকজন দ্রুত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, শাহিনের শরীরের ৫০ শতাংশ এবং হাফছার ৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ফাহিমার শরীরও ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তিনজনই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এদিকে একই রাতে সাভারের মজিদপুর দিঘীরপাড় এলাকায় গ্যাস জমে আগুনে দগ্ধ হয়েছেন পোশাককর্মী দম্পতি কায়সার ও রুবি বেগম। স্বজনদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১২টার দিকে মশার কয়েল জ্বালাতে দিয়াশলাই ধরানোর পর ঘরে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে যায়।

প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে রাত ৩টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। চিকিৎসক শাওন বিন রহমান বলেন, কায়সারের শরীরের ১০০ শতাংশ এবং রুবির ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অতিরিক্ত দগ্ধ হওয়ায় দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

এক রাতের ব্যবধানে রাজধানী ও সাভারের এই দুটি ঘটনায় গ্যাস লিকেজের ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে। সামান্য লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাস মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুনের কারণ হতে পারে। নতুনবাজারের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, আর শাহিনের স্ত্রী ও সাভারের দম্পতি এখনও জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে