ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ কয়েক জেলার ডাকাত দলের ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।এ চক্রের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া একটি ইজিবাইক, লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।শনিবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার কার্যালয় এ তথ্য জানান।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাবার অকালমৃত্যুর পর কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ১৪ বছর বয়সী ছেলে মিশকাত ইজিবাইক চালিয়ে সে তার সংসারের হাল ধরেছিল।১৯ জুলাই বিকেলে কোটচাঁদপুর রেলগেট থেকে যাত্রীবেশে চারজন ডাকাত মিশকাতের ইজিবাইকে ওঠে। তারা কৌশলে তাকে ঝিনাইদহ সদর এলাকার বংকিরা মাঠসংলগ্ন জনমানবহীন স্থানে নিয়ে যায়।সেখানে এক মেহগনি বাগানে মিশকাতের মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে একমাত্র সম্বল ইজিবাইক ও মোবাইল ফোনটি নিয়ে চম্পট দেয় ডাকাতরা। এ ঘটনায় মিশকাতের চাচা বাদী হয়ে ২১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা (মামলা নং-৩৭) দায়ের করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে শিশুটির এই অসহায়ত্বের খবর প্রকাশ পেলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান (পিপিএম) অপরাধীদের শনাক্তে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেন।তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত দল চুয়াডাঙ্গা সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ে জড়িত মূল মোঃ আকাশ সর্দার ওরফে ডাকাত আকাশকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যে কুষ্টিয়া সদর এলাকা থেকে সরাসরি যুক্ত অন্য তিন ডাকাত জিয়ারুল ওরফে জিয়া (৪৪), সিরাজুল ইসলাম (৪০) ও আখতার মোল্লাকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যমতে লুণ্ঠিত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িত রাশিদুল ইসলাম ওরফে বল্টু (৫০), লিটন আলী (৫০), সজীব শেখ (২৪), মাসুদ রানা (৩২), কুমারখালী এলাকা থেকে ইসলাম খান ওরফে তাহের (৬৫) এবং মিরপুর এলাকা থেকে মোঃ আশরাফুল ইসলামকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের কাছ থেকে মিশকাতের ইজিবাইক, একটি লুণ্ঠিত মোবাইলসহ সর্বমোট আটটি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির ৩৪০০ টাকা জব্ধ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ, জিয়া, সিরাজুল ও আখতার স্বীকার করেছে তারা দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও পাবনা অঞ্চলে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে দস্যুতা ও ডাকাতি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে।