সংবাদ প্রকাশের জেরে পটুয়াখালীর বাউফলে প্রথম আলোর সাংবাদিক এবিএম মিজানুর রহমানকে প্রকাশ্যে মারার হুমকি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন এক বিএনপি নেতা। এ ঘটনায় শঙ্কিত মিজানুরের পরিবার ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মারার হুমকি দেওয়া ওই বিএনপি নেতার নাম ইমাম হাসান অনিক। তিনি বাউফল পৌরসভা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক। তাঁর বাবা মো. হুমায়ুন কবির পৌরসভা বিএনপির সভাপতি। প্রসঙ্গত ভাঙনকবলিত হওয়ায় পটুয়াখালীর বাউফল অংশের তেঁতুলিয়া নদীতে প্রশাসন বালুমহালের ইজারা স্থগিত রেখেছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাত থেকে দিনভর খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এ কাজে বাউফল পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবিরের নাম উঠে এসেছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়েই বালু তোলা হচ্ছে।
এ সংক্রান্ত ৩ জুলাই প্রথম আলোতে “ইজারা বন্ধের পরও তোলা হচ্ছে বালু,, নেপথ্যে নেতা”ও ২২ জুলাই “ভাঙনকবলিত নদীতে বালু তোলা চলছেই”শীর্ষক দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ২৩ জুলাই এ নিয়ে “বাউফলে অবৈধ বালু তোলা ;দোষীদের ধরুন, নদী বাঁচা “ শীর্ষক প্রথম আলোতে সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। এতে বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির ছেলে ইমাম হাসান ও তাঁর স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হন। এরপর তাঁরা সাংবাদিক মিজানুরকে নিয়ে নানা অপপ্রচার চালাতে শুরু করে।এরপর সাংবাদিক মিজানুর তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে ষ্ট্যাটাস দিয়ে লেখেন-সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধভাবে বালু তোলার কথা প্রকাশ করা কি অন্যায় হয়েছে? এই ষ্ট্যাটাসের কমেন্টে গিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মিজানুরের নির্যাতনের একটি ছবি দিয়ে লেখেন-আপনি গুজব ও অপপ্রচার বেশি করেন ,তাই আবারও এমন ডিম থেরাপির অপেক্ষায় থাকেন। এছাড়াও মামলার হুমকি দেন।
মিজানুর রহমান বলেন,অবৈধভাবে বালু কাটে এবং তা লেখা যদি অন্যায় হয়ে থাকে, তাহলে এ জাতীয় অন্যায় আমি করেই যাব। কোনো হুমকিতেই আমি পিছপা হবো না। মিজানুরের মা জাহানারা বেগম বলেন,‘তাঁরা (বিএনপি নেতা) অন্যায় করবেন। আর তা লিখলেই তাঁদের সমস্যা। সাংবাদিকের কাজইতো হল অসঙ্গতি তুলে ধরা। এভাবে প্রকাশ্যে তাঁর ছেলেকে মারার হুমকিতে তিনি শঙ্কিত।
বাউফল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন,পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রথম আলোর সাংবাদিক এবিএম মিজানুর রহমানকে নিয়ে ফেইসবুক মাধ্যমে অশালীন ও নানান ধরনের অপবাদ দিয়ে মন্তব্য এবং মারার হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আর মিজানুর রহমান একজন সাহসী ও সৎ সাংবাদিক। কোনো সংবাদকর্মীকে ভয় অথবা অপবাদ দিয়ে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যায়না।
বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জলিলুর রহমান বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংবাদ প্রকাশের জেরে ২০১৫ সালের ১৭ মার্চ মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ দিয়ে আটক করে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল মিজানুরের ওপর। দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। তখন সারাদেশের সাংবাদিকেরা মিজানুরের পক্ষে ছিলেন। সেই নির্যাতনের ছবি পোষ্ট করে সাংবাদিক মিজানুরকে মারার হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরুপ।