নওগাঁয় ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ মতে, বিআরটিএ-র প্রতিটি ড্রাইভিং বোর্ডে পরীক্ষার্থীদের পাস কিংবা ফেল নির্ভর করছে তথাকথিত দালাল চক্রের প্রতিনিধি 'আতিক'-এর ওপর।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারি কোনো কর্মকর্তা সরাসরি অর্থ লেনদেন না করলেও আতিকের মাধ্যমেই চলে সব রফা-দফা। এমনকি ব্যবহারিক বা মৌখিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদেরও রাতের অন্ধকারে টাকার বিনিময়ে পাস করিয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নির্দিষ্ট রেট ও চুক্তির চিত্র:
প্রতিটি ড্রাইভিং বোর্ডে গড়ে ২ শত থেকে ২ শত ৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্ৰহন করেন। লাইসেন্স পাস করানোর জন্য নির্ধারণ করা রয়েছে অনৈতিক ফি:
মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স: ২ হাজার টাকা
পেশাদার (ডবল আইটেম) লাইসেন্স: ২ হাজার ৫ শত টাকা।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "এখানে আতিকের মাধ্যমে টাকা দিলে পাস, না দিলে নিশ্চিত ফেল। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কোনো বিসিএস ক্যাডার পরীক্ষা দিলেও টাকা না দিলে তাকে ফেলকরিয়ে দেওয়াহয়।"
তিনি আরও জানান, পরীক্ষার দিন সকালে যে বা যারা রোল নম্বর এবং নির্দিষ্ট অর্থ আতিকের হাতে তুলে দেন, চূড়ান্ত তালিকায় কেবল তাদেরই পাস করানো হয়। অন্যদিকে, মেধা বা দক্ষতা থাকলেও ঘুষ না দিলে পাস করার কোনো সুযোগই থাকে না।
লাইসেন্স প্রদানের এই জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্য বন্ধ করে পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে বিআরটিএর কর্মকর্তা মোটরযান পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মোঃ শরিফুল ইসলাম এর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে গেলে তিনি জানান এই ধরনের কোন কার্যক্রম আমাদের এখানে হয় না। আমি আতিক নামের কাউকে আমি বা আমরা চিনি না বা জানিনা।