দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯৯৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। সব মিলিয়ে একদিনে নতুন আক্রান্ত ও উপসর্গের রোগী দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫ জন। বুধবার (২৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩১ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে মোট ১৫ হাজার ৭৩৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৪০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৩৬৬ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ১৯৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবেও সংক্রমণের চাপ অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে ৭৯ জনের হাম শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি ৯৯৬ জনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেওয়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর রোগটির প্রভাব এখনও বড় আকারেই রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর মোট সংখ্যা ৮৩১ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিশ্চিত হাম ও উপসর্গজনিত মৃত্যুর পৃথক সংখ্যায় সামান্য পার্থক্য দেখা গেছে। তাই এই প্রতিবেদনে মোট মৃত্যুর সংখ্যাটিকেই ভিত্তি করা হয়েছে।
হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বড় সংখ্যা পরিস্থিতির ব্যাপকতাও তুলে ধরছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এক লাখের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে এক লাখ পাঁচ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব বলছে, হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর ঘটনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত ও উপসর্গের রোগী শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও থাকছে।