পূর্ব বিরোধে রংপুরে দম্পতির ওপর হামলা, রিকশা লুটের অভিযোগ

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) : | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
পূর্ব বিরোধে রংপুরে দম্পতির ওপর হামলা, রিকশা লুটের অভিযোগ

রংপুর সদর উপজেলার কুর্শা বলরামপুর এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে চার্জারচালিত রিকশার গতিরোধ করে এক দম্পতি ও তাদের কিশোর ছেলেকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নগদ টাকা, একটি স্মার্টফোন এবং একটি চার্জারচালিত রিকশা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে রংপুর কোতোয়ালি (সদর) থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরপুর এলাকার বাসিন্দা মো. হামিদ মিয়া (৫৪) অভিযোগ করেন, জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে অভিযুক্তরা প্রায়ই তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এজাহারে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে হামিদ মিয়া তার স্ত্রী মোছা. জাহানারা বেগম (৪৭) ও ছেলে মো. সজীব মিয়া (১৭)-কে নিয়ে চার্জারচালিত রিকশায় করে মেয়ের বাড়ি কুর্শা বলরামপুর (খোন্দাপাড়া) এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে পানবাজার-খারুয়াবাধা সড়কের একটি সেতু পার হওয়ার পর প্রায় ৫০০ গজ পশ্চিমে পৌঁছালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের রিকশার গতিরোধ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে হামিদ মিয়াকে মারধর করা হয় এবং তার স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এতে তার মাথার সামনের অংশে ১৭টি এবং পেছনের অংশে ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হামলার সময় তার স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, তাদের ছেলে সজীব মিয়াকেও মারধর করা হয়। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা এবং প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি রিয়েলমি স্মার্টফোন নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার পর অভিযুক্তরা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি তিন চাকার চার্জারচালিত রিকশাও নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা খুন, গুম ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত জাহানারা বেগমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামিদ মিয়া ও তার ছেলে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। আহত জাহানারা বেগম বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. হামিদ মিয়া পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে রংপুর কোতোয়ালি (সদর) থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।  এ বিষয়ে রংপুর কোতোয়ালি (সদর) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের বলেন, হামিদ মিয়া নামে একজন এজাহার দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে