প্রায় আড়াইশ' বছরের ঐতিহ্যবাহী বরিশালের দুর্গাসাগরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, সংখ্যালঘুদের তীর্থস্থান, মৎস্য ও পাখির অভয়রান্য রক্ষার দাবিসহ সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বরিশাল সদর ও বাবুগঞ্জ উপজেলাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের কাছে তার কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, জনসাধারনের একমাত্র পর্যটক স্পট হচ্ছে বরিশাল শহর সংলগ্ন বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর দিঘি। যা পাখির অভয়াশ্রম ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে অপরুপ লীলাভূমি।
স্মারকলিপি প্রদান করা ইনজামুল হক শুভ, মো. সাকিল হোসেন, তারেকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা জানিয়েছেন-বরিশাল শহরের সন্নিকটের এ দুর্গাসাগর দিঘি বরিশালবাসীর একমাত্র দর্শনীয় স্থান। বর্তমানে দিঘিটি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই দিঘি ব্যক্তি সাধারনের কাছে লিজ দেওয়া হলে প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার প্রবল আশংকা থাকবে। ব্যক্তি সাধারন লিজ নিলে দ্রুত মাছ বৃদ্ধির জন্য দিঘিতে কীটনাশক সার ব্যবহারসহ জাল ফেলবে। এতে পাখির অভয়াশ্রম রক্ষা করা যাবে না। ব্যক্তি সাধারন কিংবা প্রতিষ্ঠান লিজ নিলে সাধারণ পর্যটকের সাথে দ্বন্ধ ও মনোমালিন্য হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এখানে মাদকের আখড়া, সরকারি সম্পদ লুটপাটের শংকা তৈরী হবে। যে কারনে স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ অবনতির দিকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ঐতিহ্যবাসী দুর্গাসাগরটি লিজ দেওয়া হলে সাধারণ জনগন হারাবো একমাত্র দর্শনীয় স্থান। কারণ এ অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি তেমন কোন বিনোদন স্পট নেই বললেই চলে। বিনোদন স্পট না থাকার কারনে এ অঞ্চলের মানুষ বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা গৃহবন্দি অবস্থায় থাকে। যা ভবিষ্যত স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারন হয়ে দাঁড়াবে বা দাঁড়াচ্ছে। বিনোদন ও পর্যটন স্পটের অভাবে বাচ্চাদের মোবাইল আসক্তি বেড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া সৌখিন মৎস্য শিকারীদের জন্য একমাত্র সরকারি স্পট হলো দুর্গাসাগর। যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৌখিন শিকারীরা মৎস্য শিকার করতে আসেন। এটি বেসরকারি খাতে দেয়া হলে বরিশালে আর কোন সরকারি মৎস্য শিকারের জায়গা থাকবেনা। যেকারণে এ অঞ্চলের জণসাধারনের কথা চিন্তা করে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দিঘি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল করে দুর্গাসগরের অবকাঠামো সংস্কার করে শিশু, পর্যটক ও সৌখিন মৎস্য শিকারী বান্ধব পরিবেশ তৈরী করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্মারকলিপিতে ঐতিহ্যবাহী দূর্গাসাগরে পাখির অভয়ারন্য ও প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য্য রক্ষা করার জন্য লিজ প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি সরকারের তত্ত্বাবধানে সংস্কার করে বাণিজ্যিক এবং লাভজনক শিল্পে রূপান্তর করার জন্য জোর দাবি করা হয়েছে।
বরিশাল সদর ও বাবুগঞ্জের সর্বস্তরের জনগনের পক্ষে এ স্মারকলিপির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বেসামরিক বিমান, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসককে। স্মারকলিপি গ্রহণের সত্যতা স্বীকার করে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় স্মারকলিপি সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বরিশালের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মারযুক রহমান রিফাত স্বাক্ষরিত গত ২ জুনের একটি সরকারি স্মারকে জানা গেছে-চলতি বছরের ১০ মে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাসাগর দিঘি ও পাখি অভয়ারণ্যের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় দুর্গাসাগর দিঘি এবং পাখি অভয়ারণ্য প্রকল্প ইজারা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।