বাঘায় পদ্মার ভাঙনে বিলিন হচ্ছে আবাদী জমি

এফএনএস (আমানুল হক আমান; বাঘা, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
বাঘায় পদ্মার ভাঙনে বিলিন হচ্ছে আবাদী জমি

পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙছে পদ্মার পাড়। চাপ চাপ মাটি ধসে দীর্ঘ হচ্ছে ভাঙনের চিত্র। মূহুতের মধ্যে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা ভাঙনে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।  বুধবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তরে কালিদাসখালী এলকায় এ ভাঙন দেখা যায়। 

জানা গেছে, চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর চরের মানুষ ঘরবাড়ি অন্যত্রে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং হুমকির মধ্যে রয়েছে ২০-২৫টি বাড়ি।  এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর শহিদুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগে পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে ভাঙ্গন। এবার যে সমস্ত জমি ভাঙনের কবলে পড়েছে, তার সিংহ ভাগ জমিতে ছিল আম, মেহগনি গাছ ও বাড়িঘর। এই ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা এক হাজার ২৬২ জন। পরিবার ছিল চার শতাধিক। এরমধ্যে নদী ভাঙ্গনের কারনে ইতিমধ্যে দেড় শতাধিক পরিবার বিভিন্নস্থানে চলে গেছে।

৩ নম্বর কালিদাসখালী চরের ও চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেকের বাড়ি ও আম বাগান নদীগর্ভে ইতিমধ্যে বিলিন হয়ে গেছে। অনেকেই হুমকির মধ্যে রয়েছে। এবার যে ভঙনের ডাক তাতে মনে হয় কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর বলে কোন চিহৃ থাকবেনা।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর ফজলুল হক বলেন, চকরাজাপুর বলে কোন চিহৃ নেই। ইতিমধ্যেই বিলিন হয়ে গেছে। এ ওয়ার্ডের তিন ভাগের দুই ভাগ পদ্মা গর্ভে চলে গেছে। এবাব যেহারে ভাঙা শুরু হয়েছে, এভাবে ভাঙনে থাকলে আর কিছু দিনের মধ্যে এ ওয়ার্ডও বিলিন হয়ে যাবে।

এদিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আনোয়ার শিকদার বলেন, কয়েক বছরে আমার প্রায় ৩০ বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ ওয়ার্ডের কোন চিহৃ নেই। এই ওয়ার্ডের ৩ শতাধিক পরিবার দুই বছরের ব্যবধানে অন্যত্রে চলে গেছে। চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, প্রতি বছর ভাঙনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মানুষ। তবে বর্তমানের ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, পদ্মার ভাঙ্গনের খবর পেয়েছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে