ভালুকায়

বিদেশি ফলের চাষ করে ৮০ লাখ টাকা আয়ের আশা উদ্যোক্তার

এফএনএস (মোঃ আলমগীর হোসেন; ভালুকা, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
বিদেশি ফলের চাষ করে ৮০ লাখ টাকা আয়ের আশা উদ্যোক্তার

ময়মনসিংহের ভালুকায় রাম্বুটান ও লংগান ফলের বাগান করে লাভবান হয়েছে মামুন ও আশ্রারাফ উদ্দিন শুভ দুইজন যুবক। বিদেশি ফল চাষ করে তারা এখন স্বাবলন্বী। বিদেশি ফলের চাষ করে ৮০ লাখ টাকা আয়ের আশা উদ্যোক্তার। শুধু ফল বিক্রিই নয়, বাগানটি এখন কৃষি পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বাগান দেখতে মানুষ ভির করছে। এতে উদ্যোগক্তারাও খুশী। 

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি হলেও রাম্বুটান ও লংগান বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে রাম্বুটান একটি উচ্চমূল্যের ফল। এর স্বাদ ও সৌন্দর্যের

কারণে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। একই সঙ্গে লংগানও কম পরিচর্যায় ভালো ফলন দেয়। তাই বাণিজ্যিকভাবে এ দুই ফলের চাষের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। ২০২০ সালে ২০ বিঘা জমির উপর উপজেলার গোয়ারী গ্রামে থাইল্যান্ড থেকে রাম্বুটান ও লংগানের চারা এনে বাগান শুরু করেন। বাগানে তিনশত পঞ্চাশ রাম্বুটান লংগান গাছ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের লংগান, থাই কাটি মন, পেঁপেসহ দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ফলের চাষ করছে তারা। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসছেন বাগান দেখতে, ফল কিনতে এবং চারা সংগ্রহ করতে। বাগানে গাছে গাছে লাল কাঁটাওয়ালা রাম্বুটানের থোকা,আবার গুচ্ছ গুচ্ছ সোনালি-বাদামি লংগান। দেখতে অনেকটা লিচুর মতো হলেও স্বাদে ভিন্ন এই দুই বিদেশি ফল এখন বদলে দিচ্ছে দুই উদ্যোক্তার ভাগ্যের গল্প।

দর্শনার্থীরা জানান,বিদেশী  ফলের বাগান দেখতে আসছি। বাগানের রাম্বুটান ছাড়াও আরেক আকর্ষণ লংগান ফল। এছাড়াও এখানে রয়েছে ফোর সিজন, কোহালা, রুবি, হোয়াইট, পিংপং ও ডায়মন্ড রিভারসহ বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ। বাগানে এসে ভাল লেগেছে। ফল ও চারা কিনে নিচ্ছে অনেকেই। উদ্যোক্তা আশরাফ শুভ জানান,শুধু ফল উৎপাদন নয়, বাগানটি এখন কৃষি পর্যটনের কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে। ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। অনেকে ফল কেনার পাশাপাশি চারা নিয়ে নিজের বাড়িতেও বিদেশি ফলের বাগান গড়ার পরিকল্পনা করছেন। নূর জাহান কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা জানান,উপজেলার কৃষি ব্লকের গোয়ারী গ্রাম আমার মধ্যে রয়েছে।  বিদেশি ফল চাষ করে লাভবান উদ্যোক্তা আমরা কৃষি অফিস থেকে সবধরনের সহযোগিতা করে আসছি, ভালুকা ফল চাষের উপযোগী। 

নুসরাত জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভালুকা ময়মনসিংহ। ভালুকার এই বাগান প্রমাণ করছে, সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং নতুন কিছু করার সাহস থাকলে বাংলাদেশের মাটিতেও বিদেশি ফলের সফল চাষ সম্ভব। আর সেই সম্ভাবনার গল্পই ছড়িয়ে পড়ছে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। কৃষি বিভাগ সব ধরনের সহযোগীতা করছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে