রাজশাহীতে ট্রাকচাপায় আহত সাংবাদিক পরিবারের ৫ সদস্য প্রাণশঙ্কায়

এম এম মামুন; রাজশাহী
| আপডেট: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম | প্রকাশ: ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
রাজশাহীতে ট্রাকচাপায় আহত সাংবাদিক পরিবারের ৫ সদস্য প্রাণশঙ্কায়
রাজশাহীতে দ্রুতগামী বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় এক সাংবাদিকের মা ও বাবাসহ পরিবারের ৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় অন্য এক যাত্রী নিহত হন। সম্প্রতি জেলার মোহনপুর উপজেলার খয়রা মোড় এলাকায় রাজশাহী নওগাঁ-মহাসড়কে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন ওই ৫ সদস্য। মোহনপুর থানার এসআই আতাউর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল মান্নান শাহ (৫৫)। তিনি জেলার মোহনপুর উপজেলার ধুরইল এলাকার বাসিন্দা। মান্নান পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। আর আহতরা সবাই স্থানীয় সাংবাদিক মো. আমানুল্লাহ আমানের পরিবারের সদস্য। আমান অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা মেইল-এর রাজশাহী প্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ব্রাইট লাইফ ভলান্টিয়ার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আহতরা হলেন- তার মা মোছা. জায়েদা বেগম (৪৫), বাবা আলহাজ্ব মাওলানা মো. সাদেকুল আলম (৫৫), ছোট দুই বোন ফাহমিদা খাতুন (২৩) ও জাকিয়া তাবাসসুম (৮) এবং ভাগ্নি ১৭ মাস বয়সী শিশু আয়েশা সিদ্দিকা। এদের মধ্যে বাবা সাদেকুল আলমের অবস্থা বেশ গুরুতর। পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুন রাতে ১০টার দিকে মোহনপুর উপজেলার খয়রা মোড় এলাকায় যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রা ও একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত এবং একই পরিবারের ৫ জন সদস্য আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাহিন্দ্রা গাড়ি রাজশাহীর রেলগেট থেকে মোহনপুরের দিকে যাচ্ছিল। তবে বিপরীত দিক থেকে আসা রাজশাহীগামী একটি ট্রাক রং সাইডে এসে মাহিন্দ্রাকে সরাসরি চাপা দেয়। এতে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ড্রাইভারের পাশে বসা যাত্রী নিহত হন। মাঝের সিটে বসা সাদেকুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘাতক ট্রাক আরেকটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে রং সাইডে এসে মাহিন্দ্রাকে চাপা দেয়। মাহিন্দ্রার কোনো দোষ ছিল না, গাড়িটি সঠিক দিকেই যাচ্ছিল। তবে এক সেকেন্ডও সময় পাওয়া যায়নি। চোখের পলকে দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়। ট্রাকের গতি ছিল অনেক বেশি। স্থানীয়দের ধারণা ছিল, সংঘর্ষে মাহিন্দ্রা গাড়ির কেউ প্রাণে বাঁচার কথা নয়। তবে তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাদেকুল আলমের দুই পা ভেঙেছে (ফ্র্যাকচার)। এরমধ্যে ডান পায়ের অবস্থা বেশি ক্রিটিক্যাল। মাথায় ১৪টি ও হাতে ৪টি সেলাই লেগেছে। এছাড়া তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ফলে হিমোগ্লোবিন অনেক কমে যায়। যে কারণে ইতোমধ্যে ৫ ব্যাগ ব্লাড দিতে হয়েছে। আর জায়েদা বেগমের এক পা ভেঙেছে (ফ্র্যাকচার) গেছে। এছাড়া জাকিয়া তাবাসসুমের দুই পা ভেঙেছে (ফ্র্যাকচার)। কপালে কয়েকটি সেলাই লেগেছে। ফাহমিদা খাতুন পায়ের হাটুর জয়েন্টে ও মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এছাড়া ১৭ মাস বয়সী শিশু আয়েশার বুকের সব ওপরের হাড়টি ভেঙে গেছে (ফ্র্যাকচার)। জরুরি বিভাগের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, ইমার্জেন্সি অপারেশন করে অবস্থা স্বাভাবিকের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে আবারও অপারেশন করতে হবে। তাদের পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এ চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল, মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হবে। এমনকি রাজশাহীতেই চিকিৎসা দেওয়া কঠিন। এ বিষয়ে সাংবাদিক আমানুল্লাহ আমান বলেন, আমার বাবার চিকিৎসা নিয়ে সর্বশেষ বুধবার (২৯ জুলাই) হাসপাতালে নাটকীয়তা চলেছে। প্রথম অপারেশনে বাম পায়ের ভেতর রড দেওয়া হয়। আর ডান পায়ের বাইরে রড দেওয়া হয় (এক্স ফিক্স)। তবে ডান পায়ের ভাঙাটা জটিল (ওপেন ফ্র্যাকচার)। দুই হাড়ের সংযোগে অনেক দূরত্ব রয়েছে। এছাড়া ভাঙা অংশের ওপরের মাংস উঠে একদম গর্ত হয়ে গেছে। অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসা সেখানকার মাংস পূরণের জন্য বুধবার রিকুইজিশন ফরম দিয়ে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে পাঠান। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে আমরা নিয়ে যাই। তবে সেখানকার বিভাগীয় প্রধান ও প্রফেসর বলেন, ভাঙাটা বড়। দুই হাড়ের সংযোগ ঠিক না করে মাংস ভরাট করা যাবে না। করলে পরবর্তীতে পচন ধরবে এবং রোগী জীবনে আর কখনো হাটতে পারবে না। পুনরায় অর্থোপেডিক বিভাগে এসে বিষয়টি জানানো হলে অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকরা বলেন, আগে হাড়ের সংযোগ নয়। ক্ষত জায়গায় মাংসই আগে পূরণ করতে হবে। আমানুল্লাহ আমান আরও বলেন, পুনরায় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে গিয়ে অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকদের মন্তব্য জানাই। একই কথাই বলেন ওখানকার চিকিৎসকরা। আবারও ফিরে আসতে হয় এবং অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকদের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির চিকিৎসকের কথাগুলো জানাই। অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকরা পুনরায় একই কথাই বলেন। এভাবে বুধবার দিনভর অর্থোপেডিক এবং বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের ডাক্তারদের একে অপরের বিপরীতমুখী মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত চলতে থাকে। ফলে এদিন কোনো চিকিৎসাই দেওয়া হয়নি। এমন ঘটনায় আমরা হতবম্ব। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে সচেতন মহল। বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে চিকিৎসার মান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। মোহনপুর থানার এসআই আতাউর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। একজন নিহত এবং একই পরিবারের ৫ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাটি খুব মর্মান্তিক। নিহতের পরিবারের পক্ষ মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি তদন্ত চলছে। ট্রাকের চালক পলাতক রয়েছেন। তবে ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে