কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ইয়েলোফিন টুনা (ণবষষড়ভিরহ ঞঁহধ) মাছ। স্থানীয় জেলেদের কাছে এটি ‘হলুদ পাখনা টুনা’ নামে পরিচিত হলেও এ অঞ্চলে এমন মাছ খুব কমই ধরা পড়ে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য বন্দরের মেসার্স মনি ফিশ আড়তে নিয়ে আসা হলে সেটি দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ভিড় জমে। মাছটির ওজন ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম (প্রায় ২৯ কেজি)। প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে মাছটি মোট ৪০ হাজার ৪৬০ টাকায় বিক্রি হয়। মেসার্স মনি ফিশ আড়তে মাছটি নিয়ে গেলে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন মাছটি নিলামে কিনে নেন। ক্রেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এর আগে এ ধরনের মাছ আমি দেখিনি। মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও দামি।’ বেশি দামে বিক্রির জন্য এটি ঢাকায় পাঠাবেন।
জানা গেছে, গত বুধবার বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দর সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে এফবি সজীব ট্রলারের জেলেদের জালে মাছটি ধরা পড়ে।
ট্রলারের জীবন মাঝি বলেন, এ ধরনের দামী মাছ আমাদের জালে সচরাচর ধরা পড়ে না। মাছটি পেয়ে আমরা খুবই খুশি। স্থানীয় জেলে হামিদুর রহমান জানান, এত বড় টুনা মাছ আগে কখনও তারা দেখেননি। ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডঈঝ ও ওয়ার্ল্ডফিশ-এর ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ইয়েলোফিন টুনা (ঞযঁহহঁং ধষনধপধৎবং) একটি বৃহৎ সাইজের, উচ্চমাত্রায় পরিযায়ী সামুদ্রিক পেলাজিক মাছ। বিশ্বের উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রে বিস্তৃতভাবে এটির দেখা মেলে। বাংলাদেশে প্রধানত বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র, বিশেষ করে দেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (ঊঊত) ও সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এলাকায় এ মাছের বিচরণ রয়েছে। তিনি আরও জানান, এ মাছ বিশ্ববাজারে অত্যন্ত মূল্যবান।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইয়েলোফিন টুনা বিশ্বের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মহাসাগরের গভীর জলে বসবাসকারী একটি দ্রুতগতির মাছ। পূর্ণবয়স্ক টুনা মাছ প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার লম্বা এবং ওজন ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এরা সাধারণত গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে। তবে অনুকূল পরিবেশে কখনও উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে। ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার গতিতে সাঁতার কাটতে সক্ষম এবং এ মাছ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সামুদ্রিক মাছের মধ্যে একটি প্রজাতির ।