ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার একমাত্র রেলওয়ে স্টেশন মশাখালী স্টেশনে আন্তঃনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতির (স্টপেজ) দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় লোকজন। এতে হাজার হাজার ট্রেন যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শনিবার (১ আগষ্ট) সকাল ৬টা ৫ মিনিট থেকে মশাখালী রেলস্টেশনে যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে রেলপথ অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এছাড়াও গত শুক্রবার ও বৃহস্পতিবার সকালে ও রাতে অনুরুপ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এ সময় স্টেশনের ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে লাইনে ওপর লোকজন দাঁড়িয়ে থেকে রেল অবরোধ করে। অবরোধের কারণে ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটের সব ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এলাকাবাসী ও মশাখালী রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, মশাখালী স্টেশনে আন্তঃনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতির (স্টপেজ) দাবিতে গত তিনদিন ধরে সকালে ও রাতে দুই বেলা রেলস্টেশনে এলাকার বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই স্টেশনের লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। রেললাইন অবরোধ করার কারনে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই স্টেশনে আন্দোলনের মুখে পড়ে। এতে কয়েক হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়ে। এদিকে আন্দোলনে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন, লংগাইর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ শেখ, স্থানীয় বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন মানিক, মনিরুল ইসলাম চমক ফকির, তোজাম্মেল হোসেন মুক্তা, মোঃ আমির হোসেন, মাওঃ কামাল উদ্দিন, মোঃ শামছুল হুদা, ক্বারী একলাছ উদ্দিন, শিক্ষক ও মানবাধিকার নেতা মাওলানা এমদাদুল হক, বাজার ব্যবসায়ী রিপন আহমেদ, শামীম আহমেদ, ইমাম সাইফুল ইসলাম, হোটেল ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া, কাপড় ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া, মোজাম্মেল হোসেনসহ আরো অনেকেই প্রমূখ।
শিক্ষক ও মানবাধিকার নেতা মাওলানা এমদাদুল হক বলেন, দক্ষিণ গফরগাঁও এলাকায় থেকে প্রতিদিন মশাখালী স্টেশন থেকে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকা এবং ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। সড়ক পথে যানজটের কারণে ভোগান্তি হয়। গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে দূরত্ব বেশি। তাই বিকল্প হিসেবে রেলপথ ব্যবহার করে তাদের যেমন সময় বাঁচবে তেমনি স্বাচ্ছন্দ্য গন্তব্য যাত্রা করতে পারবে। এছাড়াও মশাখালীতে সব আন্তঃনগর ট্রেন যাত্রাবিরতি দিলে সরকার প্রচুর রাজস্ব পাবে।