পাবনার চাটমোহরে সোনালী আঁশ পাট নিয়ে মহা কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। দিনরাত পাট ঘরে তুলতে ব্যস্ত তারা। পাট কাটা,জাগ দেওয়া,ধোয়া আর শুকানোর কাজ চলছে অবিরাম। তবে পানির স্বল্পতা আর কৃষিশ্রমিকের মজুরী নিয়ে অসন্তোষ কৃষকের মাঝে। এছাড়া বৃষ্টি হানা দেওয়ায় পাট শুকাতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষক-কিষাণি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেল,কৃষক ও কিষাণি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানো ও শুকানোতে ব্যস্ত। কৃষিশ্রমিক সংকটে অনেকেই সময়মতো পাট কাটতে ও জাগ দিতে পারছেনা। উপজেলার ডিবিগ্রামের পাটচাষি আজমত আলী বললেন,‘দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছি। এখন পর্যন্ত কামলা না পেয়ে কাটতে পারিনি। কামলার মজুরী ১০০০ টাকা করে। আমার দুই বিঘা জমিতে ৮জন কামলা (কৃষিশ্রমিক) লাগবে।’ কামলা না পেলে তিনি নিজেই পাট কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানালেন।
পাটখড়ি থেকে পাট ছাড়াতে ব্যস্ত গ্রামীণ নারীরা। গৃহিণী নাসিমা বেগম জানালেন,“পাট ছাড়ানোর পর সোলা (পাটখড়ি) আমরা নিয়ে যাই। প্রতিদিন ১০০/১১০ আটি পাট ছোলা যায়।”
এবছর সোনালী আঁশে সোনালী স্বপ্ন বুনছেন পাটচাষিরা। ফিরেছে পাটের সুদিন। পাটের বাম্পার ফলন ও ভালো দামে খুশি কৃষক। হাট-বাজারে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে পাট। কৃষকের আশা সোনালী আঁশে তাদের ভাগ্য ফিরবে। তবে ভরা বর্ষা মৌসুমেও চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন পাট চাষিরা। এদিকে চলছে শ্রমিক সংকট। একজন কৃষিশ্রমিকের মজুরী ১ হাজার টাকা। একবিঘা জমির পাট কাটতে খরচ ৪ হাজার টাকা। আবারো পাটের আঁশ ছাড়াতে গ্রামীণ নারীরা পাটখড়ি নিয়ে নিচ্ছেন। ফলে কৃষকের পাটখড়ি চলে যাচ্ছে অন্যের ঘরে।
চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের হাট-বাজারে নতুন পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ। কিছুদিন আগে বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৪০০ টাকা মণ। এখন দাম কিছুটা কম। কৃষক পাট বিক্রি করে রোপা আমন আবাদে নামছেন। ফলে পাট ঘরে রাখতে পারছেন না। চাটমোহরের হাট-বাজারে এখন নতুন পাটের জমজমাট বেচাকেনা চলছে।
কৃষিশ্রমিক,বৃষ্টি আর পানির অভাবে পাট নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় পড়েছেন চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের পাটচাষিরা। আষাঢ় মাসেও ছিলনা পর্যাপ্ত পানি। পাট কাটা,জাগ দেওয়া আর পাটখড়ি থেকে আঁশ ছাড়িয়ে পাট ধোয়ার কাছে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন কৃষক। তবে বৃষ্টির কারণে পাট শুকাতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন কৃষক। চাটমোহর উপজেলার নদী-নালা,খাল-বিলে এখন পাট জাগ দেওয়া হেেচ্ছ। চলছে পাট ধোয়ার কাজ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে পাট কাটা,জাগ দেওয়া,ধোয়া আর শুকানোর কাজ। এ যেন এক মহা কর্মযজ্ঞ।
চাটমোহর উপজেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিত পাটের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৮ হাজার ৯০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৯৬০ হেক্টর। বিঘাপ্রতি ফলনও ভালো। হাট-বাজারে নতুন পাটের দামও বেশি।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ জানান,পাটে জাগ দেওয়ার জন্য পানির সংকট কিছুটা ছিলো। যা এখন আর নেই। পাটচাষিরা এখন ব্যস্ত পাট ঘরে তুলতে। পাটের ভালো ফলন ও দাম হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।