হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন চাটমোহরের আ.লীগের ১৬ নেতা

এফএনএস (হেলালুর রহমান জুয়েল; চাটমোহর, পাবনা) :
| আপডেট: ৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম | প্রকাশ: ৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন চাটমোহরের আ.লীগের ১৬ নেতা

পাবনার চাটমোহরে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা একটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৬ জন নেতা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন লাভ করেছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ধারায় চাটমোহর থানার ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখের ১৭ নম্বর মামলায় অভিযুক্ত ১৬ জন নেতা ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে পৃথক দুটি আগাম জামিন আবেদন করেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি কাজী মো. এজারুল হক আকন্দ ও বিচারপতি নাসরীন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আবেদন দুটি শুনানি শেষে তাদের ৮ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী,তারা ৮ সপ্তাহের জন্য জামিনে থাকবেন। মামলাটির পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট আদালতে চলমান থাকবে।

ককটেল বিস্ফোরণ,সরকারবিরোধী শ্লোগান দেওয়ার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৩১ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে চাটমোহর থানায় একটি মামলা হয়। গত ২২ জুলাই উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক,পূর্বটিয়ারতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. মজর আলী চাটমোহর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলার এজাহারভুক্ত ১৬ জন আসামি হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন লাভ করেন। জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন হরিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন,চাটমোহর মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মাহবুবুল আলম,উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হেলাল উদ্দিন,ডিবিগ্রাম ইউপি সদস্য আঃ মতিন,শরিফুল্লাহ সাচ্চু,আৎ ওয়াহেদ বকুল,গাজিউর রহমান,হুমায়ুন কবির রাজিব,নুরে আলম ছোটন,ফরিদুল ইসলাম,নাসিম হোসাইন,সাইদুল ইসলাম,আঃ গণি,মহরম আলী ও রবিউল ইসলাম।  

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে মূলগ্রাম ইউনিয়নের কায়েমখোলা মোড়ে আতার আলীর চায়ের দোকানে বসে ছিলেন মজর আলী। এ সময় মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে একদল ব্যক্তি সেখানে এসে ‘জয় বাংলা’সহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দেন। এজাহারে আরও বলা হয়,বাদী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে পরপর দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে তারা প্রাণনাশের আশঙ্কায় পড়েন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ,৮ থেকে ১০ কেজি ইটের খোয়া এবং ১০ থেকে ১২টি বাঁশের লাঠি জব্দ করে। মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক হেলাল উদ্দিনসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ২ জনকে গ্রেফতার করে কারাহারে পাঠিয়েছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ অলিউর রহমান জানান,শুনেছি কয়েকজন হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন লাভ করেছেন। যাচাই বাছাই করে পদক্ষেপ নেওা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে