ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে কারখানার স্বার্থে বর্তমান ডিএসকে অপসারণের দাবিও উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ দায়িত্ব নেওয়ার পর কারখানার মালামাল চুরি ও চুরির ঘটনায় আটকের মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মামলা হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কারখানার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কারখানার বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, অস্থায়ী শ্রমিক (টিএলআর) নিয়োগের ক্ষেত্রেও পছন্দের লোকজনকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি টিএলআর হিসেবে কর্মরত এক নারীর সাথে স্থায়ী এক চাকুরীজীবীর অনৈতিক সম্পর্কের গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর ওই নারীর চাকরি চলে গেলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে পার্বতীপুরের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় (কেলোকা) বদলি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনাগুলোর যথাযথ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
সম্প্রতি এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সরকারদলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ সরব হয়ে উঠেছে। তারা কারখানার প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং বর্তমান ডিএসের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই রেলওয়ে কারখানায় নানা সমস্যা বিরাজ করছে। কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দক্ষ ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়েও কারখানার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা থেকে আসা এক ব্যক্তিকে কারখানা-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আটক করে স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের ঘটনাও ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
কারখানার সংশ্লিষ্টদের একাংশ বলছেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা শুধু স্থানীয় নয়, দেশের রেলওয়ে খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে অনিয়ম, চুরি, জনবল ব্যবস্থাপনায় পক্ষপাত কিংবা প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং কারখানার প্রশাসনিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। একই সঙ্গে কারখানার উন্নয়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পরিবর্তনের দাবিও জোরালো হচ্ছে।