গাইবান্ধা শহর ও আশপাশের এলাকায় সারাদিন অসহনীয় লোডশেডিংয়ের পর গভীর রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ গ্রাহক। চরম এই বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে নেস্কো (ঘঊঝঈঙ) গাইবান্ধা ডিভিশনের জরুরি সেবা নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সারাদিনজুড়ে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়ে।্ শহরে প্রায় এক ঘন্টা পর পর প্রতিদিন লোড শেডিং চলছে। এই লোড শেডিং শহরের চাইতে গ্রামে আরো ভয়াবহ। গ্রাম গুলোতে একবার লোড শেডিং হলে তা প্রায় ৩/৪ ঘন্টার নিচে পাওয়া যায় না। এভাবে দিনে কতবার বার লোড শেডিং চলে তার হিসেব রাখা দায়। বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতি বা সংযোগ কখন স্বাভাবিক হবে তা জানতে গ্রাহকরা নেস্কো গাইবান্ধা ডিভিশনের অফিসিয়াল জরুরি সেবা নম্বরে (০১৩১২-৭৯০৫০১) কল দিলেও সেটি বারবার আন অ্যানসার্ড বা রিসিভ না করে ফেলে রাখা হয়।
ভুক্তভোগী এক গ্রাহক জানান, গভীর রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় মারাত্মক গরম ও মশার উপদ্রবে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ রোগীরা চরম কষ্টের মধ্যে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ফোনে কল দেওয়া হলেও একাধিকবার চেষ্টা করেও কাউকেই পাওয়া যায় না। জরুরি সেবা প্রদানের জন্য যে হেল্পলাইন নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সংকটকালে সেটি বন্ধ রাখা বা রিসিভ না করা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও গ্রাহক সেবায় অবহেলার শামিল।
জরুরি নাম্বারে দায়িত্বরত কর্মীদের এমন উদাসীনতা ও দায়িত্ব অবহেলার কারণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় গ্রাহক সমাজ। নেস্কোর মতো একটি রাষ্ট্রীয় সেবা সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই ধরনের কার্যক্রমে জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবা নম্বরসমূহ ২৪ ঘণ্টা সচল রাখাসহ দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেস্কোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।