নীলফামারীর সৈয়দপুরে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকের ব্যাটারির অস্বাভাবিক দামে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন চালক ও মালিকরা। ব্যাটারি কিনতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্নআয়ের এসব যানবাহনের মালিকরা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে বর্তমানে ইজিবাইক ও অন্যান্য ব্যাটারিচালিত যানবাহনে মূলত দুই ধরনের ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে পানি ব্যাটারি’ ও ‘পাউডার ব্যাটারি’। যানবাহনের ধরন ও ব্যাটারির মানভেদে রয়েছে দামের বড় ধরনের পার্থক্য। রিকশায় সাধারণত তিনটি ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। এসব ব্যাটারির দাম পড়ছে প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা। ভ্যানে তিনটি ব্যাটারির জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। আর একটি ইজিবাইকে পাঁচটি ব্যাটারি লাগাতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
ব্যাটারির সংখ্যা কমিয়ে খরচ কমানোর চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। মিস্ত্রির মাধ্যমে বিশেষভাবে তৈরি করে একটিমাত্র বড় ব্যাটারি ব্যবহার করছেন তারা। তবে এতে উল্টো খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। এমন একটি ব্যাটারির দাম পড়ছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
চালকদের অভিযোগ, ব্যাটারির সংখ্যা একটি হোক কিংবা পাঁচটি চার্জ দিতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। চার্জ বাবদ প্রতিদিন গুণতে হচ্ছে বাড়তি ১২০ টাকা। অথচ পূর্ণ চার্জের পর এসব ব্যাটারি দিয়ে সাধারণত একদিনের বেশি চালানো যায় না। ফলে ব্যাটারি কেনার পাশাপাশি প্রতিদিনের চার্জিং খরচও বহন করতে হচ্ছে চালকদের।
সৈয়দপুর শহরের ইজিবাইক চালক আলম,জাহাঙ্গীর,সনু,শহীদুল ইসলাম ও সাইদুল বলেন, ব্যাটারির দাম বাড়লেও তাদের আয় সে তুলনায় বাড়েনি। একটি ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেলে সেটি পরিবর্তন করতে গিয়ে অনেক সময় কয়েক মাসের সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যায়। এতে সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। চালকদের দাবি, ব্যাটারির দাম নির্ধারণে কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছেন। একই ধরনের ব্যাটারির ক্ষেত্রেও দোকানভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
তাদের মতে, ব্যাটারির দাম, মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে পরিষ্কার ধারণা নেই। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে দোকানদার কিংবা মিস্ত্রির কথার ওপর নির্ভর করে ব্যাটারি কিনছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাটারির দাম ও মানের বিষয়টি খতিয়ে দেখে বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং নিম্নমানের ব্যাটারি বিক্রি বন্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যাটারির স্থায়িত্ব ও চার্জ ধারণক্ষমতা সম্পর্কে ক্রেতাদের সঠিক তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল হাজারো চালকের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাটারির অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।