নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর পরও ‘প্রাণ ফিরে আসবে’ ওঝার এমন আশ্বাসে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে ঝাড়ফুঁক। শেষ পর্যন্ত সবই ব্যর্থ হয়। পরে স্বজন ও এলাকাবাসীর চোখের জলে সম্পন্ন হয় দাফন। নিহতরা হলো উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের জুরাবান্ধা মালিপাড়ার বিপুল রায়ের ছেলে বিজয় রায় এবং বাহাগিলি ইউনিয়নের বৈদ্যপাড়ার আব্দুর রহিমের মেয়ে লুনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের লোকজন দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়। তারপর চিকিৎসক তাদেরকে মৃত্য ঘোষণা করেন। লাশ নিয়ে বাড়ীতে এলে ব্যবস্থা করা হয় দাফনের। কিন্তু সেখানে আগমন ঘটে এক ওঝার । ওঝা ঝাড়ফুঁক করলে বিষ নেমে যাবে এবং প্রাণ ফিরে আসবে এমন আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে ঝাড়ফুঁক। এ সময় স্বজনদের পাশাপাশি আশপাশের লোকজনও সেখানে ভিড় করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সাড়া না পাওয়ায় স্বজনদের আশা ভেঙে যায়। এ ঘটনায় দুই পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পাশাপাশি বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মৃত্যুর পরও প্রাণ ফিরে পাওয়ার আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝাড়ফুঁকের ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর ভাষ্য,সময়মত চিকিৎসা পেলে অনেক সাপের কামড়ের রোগী সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু কুসংস্কার ও ভুল চিকিৎসার কারণে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। সচেতন মহল বলছে, সাপের কামড়ের পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে সাপের কামড় নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করতে ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন।