পরিবারটির স্বাবলম্বি হওয়ার স্বপ্ন

বাজিপুরে ৫ ভাই বোন শারীরিক প্রতিবন্ধী, তবুও পড়াশোনা থামেনি

এফএনএস (মহিউদ্দিন লিটন; হাওর অঞ্চল, কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
বাজিপুরে ৫ ভাই বোন শারীরিক প্রতিবন্ধী, তবুও পড়াশোনা থামেনি

কিশোরগঞ্জে বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের বিল পাড় গজারিয়া গ্রামের ৫ ভাই বোন শারিরীক প্রতিবন্ধী। তবু তারা পড়াশোনার মধ্য দিয়েও আশা ছাড়েনি। তাদের বিদ্যালয় যেতে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়। কারণ শারিরীক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তাদের কষ্ট করে শ্রেণি কক্ষে যেতে হচ্ছে। তবু বই খাতা ছাড়েনি তারা। বড় ভাই সুজন মিয়া কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। ছোট বোন মারজিয়া বেগম বাজিতপুর সরকারি কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতক সর্ম্পূণ করেছেন। জহুরা বেগম সমাজকর্ম বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মুক্তা আক্তার এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষ দিয়েছেন। সবার ছোট বোন পান্না আক্তার ১০ম শ্রেণিতে পড়ে। একই পরিবারে জীবনের স্বাভাবিক চলাটাই তাদের প্রতি দিনের চ্যালেঞ্জ। সেখানে ৫ ভাই বোনের একের পর এক শিক্ষার শিরি পেরিয়ে যাওয়া বিড়াট একটা উদাহারণ। তাদের বাবা মহরম আলী নিজেও শারিরীক প্রতিবন্ধী ছিলেন। প্রায় ৮ বছর আগে তিনি মারা গেছেন। তার চাচা তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেন। বছর কানেক তিনি ও প্যারালাইসিস রুগে আক্রান্ত। এ পরিবারটি এতদিন কষ্ট করে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছে। সে পরিবারটি অনাগত ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিয়তার মধ্যে আছে। সুজন মিয়া বলেন, তার নিজের জন্য কোনো চাওয়া নেই। ৫ ভাই বোনের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব কষ্টে তিনি পড়া শোনা করেছেন। তিনি নিজেও স্বাভাবিক চলা পেড়া করতে পারেন না। তার পরেও তিনি আশা ছাড়েন নি। তিনি আরো বলেন সেটিও হয়তো সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা কারো দয়া বা করোনা চাইনা। নিজেদের যোগ্যতার মধ্যে দিয়ে যদি চাকুরি হয় তাহলে তার পরিবারের সবাই সুখে সাচ্ছন্দে থাকতে পারবেন বলে আশা পুষন করবেন। স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন ৫ সন্তানই শারিরীক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বড় হলেও তারা পড়া শোনা চালিয়ে গিয়েছেন। তাদের মধ্যে এক জন কে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকুরি দেওয়া হলে পরিবারটি সাবস্বলবি হতে পারবে। আজ  রবিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া কিশোরগঞ্জ শহরে আসবেন বলে মনে হয়েছে। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্ভোধন করবেন বলে আশা করছে। এ পরিবারটি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মোঃ শরিফুল আলম সহ জণপ্রতিনিধি ও প্রসাশনের সহযোগিতার পেয়েছে তাদের আশা এখনও শেষ হয়নি। পিরিজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল জুয়েল বলেন শারীরিক প্রতিবন্ধীর মধ্যেও ৫ ভাই বোন যেভাবে লেখা পড়া করছে তা সত্যি অনুপ্রেরণা গায়ক। উপযুক্ত সুযোগ পেলে তাড়াও অনেক পথ এগিয়ে যেতে পারে। বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, তিনি সম্পূতি দায়িত্ব নিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর খোজ খবর নিয়ে পরিবারটি বিষয়ে তিনি সহযোগিতা করবেন বলে উল্লেখ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে