হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবির আন্দোলনকে ‘মব’ হিসেবে উপস্থাপন এবং হিমাগার ভাঙচুর ও জোরপূর্বক আলু বের করে নেওয়ার অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে রংপুর জেলা আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতি। একই সঙ্গে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল সংস্থার নাম ব্যবহার করে হিমাগার মালিকদের সংবাদ সম্মেলনেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১২ আগস্ট কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, রংপুর কার্যালয়ে হিমাগার ভাড়া কমিয়ে প্রতি কেজি আলুর জন্য ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে স্মারকলিপি দেন। একই সঙ্গে তারা সংবাদ সম্মেলন করে ১৬ আগস্টের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
তহিদুল ইসলামের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে যখন প্রস্তুতি চলছিল, তখন হিমাগার মালিকরা ১৬ আগস্ট হিমাগার ভাঙচুর ও জোরপূর্বক আলু বের করে নেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ বক্তব্যকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কৃষক-ব্যবসায়ী এবং সরকারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, সরকারি উদ্যোগে গঠিত হিমাগার ভাড়া নির্ধারণসংক্রান্ত সুপারিশ কমিটি প্রতি কেজি আলুর জন্য ২ টাকা ৩৭ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৪৩ পয়সা পর্যন্ত ভাড়ার সুপারিশ করেছে। তবে হিমাগার মালিকরা ওই সুপারিশে স্বাক্ষর করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
তহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর তাদের সঙ্গে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময় নিয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে হিমাগার ভাড়া কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হলে আগামী ২৩ আগস্ট সাংবাদিকদের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ বাবু চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করে তৌহিদুল ইসলাম বলেন, তার নেতৃত্বে হিমাগার ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে কৃষকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোনো স্বতন্ত্র নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
হিমাগার মালিকদের প্রতি সতর্ক করে তিনি বলেন, সাধারণ কৃষকদের মামলার ভয় দেখানো থেকে বিরত থাকতে হবে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দাবিকে কোনোভাবেই দমন করা যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন কমিটির সদস্য মোবারক হোসেন মনসুর, রংপুর জেলা আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান এবং কোষাধ্যক্ষ নুরুন্নবী হক ভূঁইয়াসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় হিমাগার ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা জরুরি। তাদের বক্তব্য, ‘কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ