বিচারের আশ্বাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ প্রত্যাহার

এফএনএস (প্রতিবেদক): | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
বিচারের আশ্বাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ প্রত্যাহার

ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুল হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। জাহিদ হাসান বুলবুল নারায়ণগঞ্জের বন্দরে রিকশা গ্যারেজ মালিক ছিলেন।

আজ শুক্রবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিট থেকে ১০ টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বন্দরের মদনপুর এলাকায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে বন্দর থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে। পরে বিচারের আশ্বাসে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় জাহিদ হাসান বুলবুল (৪৫) নামে এক রিকশা গ্যারেজ মালিককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত বুলবুল সালেহনগর শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে এবং ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় সালেহনগর এলাকায় বুলবুলের রিকশা গ্যারেজে লুটপাটের ঘটনায় তিনি বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় সিফাতকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় বুলবুলকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে পেয়ে সিফাত ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ফের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সিফাতসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বন্দর থানার ওসি জামাল হোসেন বলেন, “প্রধান অভিযুক্ত সিফাতকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।