স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চিকিৎসা অবহেলা কোনরকম বরদাস্ত করা হবে না। চিকিৎসা অবহেলা জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে তিন সন্তানের জননী পেটে গজ রেখে সেলাই দেয়ার পর মৃত কনিকা রানীর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। পরিবারের সহমর্মিতা জানাতে আমি এই বাড়ীতে এসেছি। এই পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের স্থানীয় বিএনপি নেতারা পাশে থাকবেন, পাশে থাকবে সরকার। গত ১৭ বছর স্বাস্থ্যসেবাকে যেভাবে ধ্বংস করেছে সেখান থেকে উত্তোরণে আমরা কাজ করছি। আমরা চাই স্বাস্থ্যসেবা জনগনের দৌড়গড়ায় পৌছে দিতে। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছি। সরকার এই পরিবারের পাশে থাকবে এবং সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আধুনিকায়নের জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যা সাধারণ জনগন সুফল ভোগ করবে।
এসময় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা. মো: ফারুক হোসেন, উপজেলা অফিসার ইনচার্জ আবদুর রব তালুকদার, উপজেলা বিএনপি সভাপতি গোলাম শওকত সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত: গত ২৯ জুন ফরিদপুর সমরিতা হাসপাতালে ডা. লক্ষী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী কনিকা মন্ডল (৩৫)। পরদিন তার পেট ফুলে যায়। অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৭ জুলাই পরীক্ষায় তার পেটে গজ পাওয়া যায়। সেদিনই অপারেশন করে তা বের করা হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত বুধবার (১৯ আগষ্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ওই হাসপাতালে মৃত্যু হয় কনিকার।