গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ সিমুলতাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার এক কার্টুন ১১১ প্যাকেট দুধ শিশুদের খাদ্য হিসাবে সরবরাহ করা হয়। পরে এসব দুধের প্যাকেট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বুঝিয়ে নিয়ে অফিস রুমে রাখেন। শনিবার সকালে স্থানীয় অভিভাবক আঞ্জুয়ারা বেগম বিদ্যালয়ের কক্ষ থেকে গলিত দুধের পঁচা দূর্গন্ধ জানতে পেরে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে খবর দেন।
পরে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ খুলে দেখেন প্রায় ২৫-৩০ টি দুধের প্যাকেট বাষ্ট হয়ে গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, আরডি দুধ প্রস্তুতজাত কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক জাকারিয়া আমানকে অবগত করা হয়। পরে তারা দুধের প্যাকেটগুলো ফেরত নিয়ে যান।
পঁচা দুধের প্যাকেট বিতরণ বিষয়ে অভিভাবক ববিতা বেগম, অভিভাবক কুলছম বেগম বলেন, সঠিক তদারকি না থাকায় আমরা বাচ্চাদের কাছ থেকে প্রায়ই শুনি পঁচা ডিম ও দুধ বিতরণ করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন সালমান, কল্পনা, সুরাইয়া জানান, এর আগেও ডিমে পঁচা কুমুম আমরা পেয়েছি। প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, দুই একজনের কাছে এমন হলেও আমরা তা বিতরণ করি না। গাইবান্ধা সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু সুফিয়ান (বাদিয়াখালী ক্লাষ্টার) বলেন, পঁচা দুধের প্যাকেটের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে অবগত করেছেন। আমি সংশ্লিষ্টদের এসব দুধ ফেরত দিতে বলেছি। গাইবান্ধা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আঃ হান্নান বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমরা উক্ত স্কুলে গিয়ে সত্যতা পেয়েছি। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। mজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্ণণ চন্দ্র দাশ বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। আরডি দুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির সহকারী ব্যবস্হাপক জাকারিয়া আমান বলেন, ইতিমধ্যে সেদিনকার বিতরণকৃত সকল দুধ ফেরত নেওয়া হয়েছে। তবে বিতরণ কৃত দুধের মান পরীক্ষার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের আশুদৃষ্টি কামনা করেছেন অভিভাবকেরা।