ছোট ভাইকে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই ও তার স্ত্রী-সন্তান গ্রেপ্তার

এফএনএস (মোঃ শামিম উল হক শাহিন; গাইবান্ধা) : | প্রকাশ: ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
ছোট ভাইকে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই ও তার স্ত্রী-সন্তান গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বসতভিটার সীমানা নিয়ে দ্বন্ধ্বের জেরে আদা চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই ছেলে রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক ছিলেন।

শনিবার ২২ আগষ্ট রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল মধ্যরাতে তাদেরকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাবের বগুড়া ও গাইবান্ধার যৌথ একটি টিম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া গ্রামের নিপেন দাস ওরফে খইলশা (৬১), শঙ্করাজ সেন ওরফে ঠাকুর দাশ (২৮), সত্য সেন ওরফে সত্য দাশ (২১) ও শংকরী রানী (৫১)। তাদের মধ্যে প্রধান আসামী নিপেন দাস ওরফে খইলশা। নিপেন দাস ও শংকরী রানী স্বামী-স্ত্রী এবং অপর আসামি দুজন তাদের সন্তান। হত্যার শিকার আদা চন্দ্র দাস ওরফে রাধানাথ একই গ্রামের মৃত কার্ত্তিক চন্দ্র দাসের ছেলে।

মামলার এজাহারের বরাতে র‌্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পারিবারিক বসতভিটার সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিহত আদা চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার আপন বড় ভাই নিপেন চন্দ্র দাসের বিরোধ চলছিল। সর্বশেষ গত ৩ জুলাই আসামি নিপেন চন্দ্র দাস বিরোধপূর্ণ জায়গায় একটি টয়লেট নির্মাণ শুরু করলে এ নিয়ে উভয় পরিবারের লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। একই বিষয় নিয়ে পরের দিন ৪ জুলাই সকাল ১০ টার দিকে আবারো নিপেন দাসকে টয়লেট নির্মাণ করতে নিষেধ করেন আদা চন্দ্র।  দুপুরে আদা চন্দ্র দাস বাড়ির সামনে ছাগল চড়াতে গেলে ওই ইস্যুতে নিপেন চন্দ্র দাস পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে গুরত্বর আহত হন আদা চন্দ্র। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং স্বজন ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত আদা চন্দ্রকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেয়। তবে, সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক আদা চন্দ্র দাসকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে এই ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে একইদিন রাতে সাদুল্লাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‌্যাব। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে বগুড়ার নাটাইপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের বাসা থেকে বগুড়া র‌্যাব-১১ ও গাইবান্ধা র‌্যাব-১৩ এর একটি যৌথ টিম তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে র‌্যাব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে