স: হাসপাতালে রোগী ফেলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখছিলেন চিকিৎসক

এফএনএস (মোঃ হাসান আলী মন্ডল; ক্ষেতলাল, জয়পুর হাট) : | প্রকাশ: ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
স: হাসপাতালে রোগী ফেলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখছিলেন চিকিৎসক

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকালে পাশের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয়রা তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সহযোগিতায় ওই চিকিৎসককে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অভিযুক্ত চিকিৎসক হলেন আক্কেলপুর ৫০ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মোর্শেদুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের পাশের দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও অপেক্ষমাণ রোগীদের অভিযোগ, দুপুর ১২টার দিকে একটি ফোন পাওয়ার পর হাসপাতালের চেম্বার থেকে বেরিয়ে যান ডা. মোর্শেদুল ইসলাম। এ সময় তাঁর চেম্বারের সামনে বেশ কয়েকজন রোগী অপেক্ষা করছিলেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে অনুসরণ করে পাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে রোগী দেখার সময় দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁরা চিকিৎসককে ঘিরে ফেলেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে খবর দেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা সিফাত হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের জন্য রোগীরা অপেক্ষা করছিলেন। অথচ ওই চিকিৎসককে পাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখার সময় পাওয়া যায়। এর আগেও তিনি এমন করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। অপেক্ষমাণ রোগী কারিমা আক্তার বলেন, তিনি দীর্ঘ সময় চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। পরে জানতে পারেন, চিকিৎসক পাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখছেন।

দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক রাসেল হোসেন বলেন, ডা. মোর্শেদুল ইসলাম সেখানে এসে রোগী দেখেছেন। তবে হাসপাতালের দায়িত্বের সময় কেন এসেছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ফোন পেয়ে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে হাসপাতালে কোনো রোগী ছিল না।

আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ বলেন, খবর পেয়ে তাঁকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. আল-মামুন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা অবগত হয়েছেন। বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে