বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে রহিমা ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে একটি ব্যবসায়িক পিকআপ চুরির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আমিন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে চুরি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং ঘটনায় জড়িত আরও দুজনের নাম জানা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে চুরি যাওয়া পিকআপটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী মো. মারুফ মীরের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, তাঁর মালিকানাধীন মাহেন্দ্রা কোম্পানির বোলেরো পিকআপটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-২০৪৯। গাড়িটির আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ টাকা। পিকআপটি ঋণের কিস্তিতে কেনা হয়েছিল এবং ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হতো।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে চালক মুরসালিন মোল্লাহাট উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে রহিমা ফিলিং স্টেশনের দক্ষিণ পাশে পিকআপটি রেখে যান। পরে রাতে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরদিন ভোরে গাড়িটি নিতে এসে নির্ধারিত স্থানে পিকআপটি দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে বিষয়টি গাড়ির মালিককে জানান তিনি।
ফিলিং স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে পিকআপটি নিয়ে মহাসড়ক ধরে ঢাকার দিকে চলে যায়। এরপর মোল্লাহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় চুরি মামলা হয়েছে। মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রমজানুল হক জানান, পিকআপ চুরির ঘটনায় আমিন মিয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে সে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে এবং তার সঙ্গে জড়িত আরও দুজনের নাম জানিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার ও চুরি যাওয়া গাড়ি উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ইনশাআল্লাহ গাড়িটি উদ্ধার করতে পারবো। এদিকে পিকআপটি ঋণের কিস্তিতে কেনা হওয়ায় চুরির পর থেকে আর্থিক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মালিক মারুফ মীর। তিনি জানান, গাড়িটি দ্রুত উদ্ধার করা না গেলে তাঁর ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি ঋণের কিস্তি পরিশোধেও সমস্যায় পড়তে হবে। তিনি দ্রুত পিকআপটি উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মহাসড়কের পাশে একটি ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে সিসিটিভির আওতাধীন এলাকা থেকে পিকআপ চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, পুলিশ যেন তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া গাড়িটি উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনে।