গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সামান্য ঘাস কাটা ও জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৯ আগস্ট শনিবার দুপুরে উপজেলার পাবুর দক্ষিণপাড়ার চান্দুন মসজিদের পাশে রাস্তার ওপর এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত যুবকের নাম নিলয় সরকার (২৫)। তিনি কাপাসিয়ার স্থানীয় মনির ডাক্তারের একমাত্র ছেলে এবং পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন।
স্থানীয়দের তথ্য ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাপাসিয়ার পাবুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় গরুর ঘাস খাওয়া ও জমিজমা নিয়ে নিলয়ের পরিবারের সাথে তার চাচাতো ভাই রাসেল সরকারের (পিতা: ইসমাইল সরকার) দীর্ঘ এক-দেড় বছর যাবত পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। ঘটনার দিন নিলয় কাপাসিয়ার পার্শ্ববর্তী বলখেলা বাজার থেকে বাবার জন্য ওষুধ কিনে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পাবুর দক্ষিণপাড়ায় আগে থেকেই রাস্তায় ওত পেতে থাকা রাসেল সরকার হঠাৎ গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে চলন্ত মোটরসাইকেলেই নিলয়ের মাথায় দা দিয়ে কোপ দেয়। এতে নিলয় মোটরসাইকেলসহ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি গাছে সজোরে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পরপরই ঘাতক রাসেল একটি থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরা অবস্থায় দ্রুত একটি গাড়িযোগে কাপাসিয়া সদরের দিকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিকট শব্দ শুনে ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় নিলয়কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে কাপাসিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) জুবায়েরের নেতৃত্বে একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত সংগ্রহ করে এলাকাটি ঘিরে রাখেন।
কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জুবায়ের জানান, "খবর পাওয়ার পরপরই কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। নিহতের লাশ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে, সেখানে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। ঘাতক রাসেলকে গ্রেপ্তারে কাপাসিয়া থানা পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।"
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নিলয়ের পরিবারে চলছে মাতম। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাপাসিয়ার মাটিতে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ঘাতক রাসেলের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।