‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাসব্যাপী সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিলেট বন বিভাগ আয়োজিত এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বৃক্ষ শুধু ফল, ফুল ও কাঠ দেয় না; বৃক্ষ মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও রক্ষা করে।”
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেটে প্রায় ২০ লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। শহরে নার্সারি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। আগামী বৃক্ষ মেলায় শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক।
তিনি আরও বলেন, “বৃক্ষরোপণ করে কেউ ঠকে না। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সম্পদশালী হওয়া যায়। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে অনেকেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও ধনবান হয়েছেন। সরকার বৃক্ষরোপণে অবদানের জন্য জাতীয় পুরস্কার দিয়ে মানুষকে উৎসাহিত করছে।”
সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রোমেল আহমদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বৃক্ষরোপণে জাতীয় পদকপ্রাপ্ত আফতাব চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শুমাইয়া ইসলাম শুভা ও রিয়াজ উদ্দিন আহমদ। নার্সারি মালিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন সিলেট নার্সারি মালিক কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মলয় লাল ধর। সিলেট কাঠ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন সমিতির সভাপতি আবুল কালাম।
মেলায় বিভিন্ন নার্সারির স্টলে দেশীয় ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বৃক্ষের চারা, ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা, ক্যাকটাস, অর্কিডসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি বৃক্ষ সংরক্ষণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের বিষয়গুলোও মেলায় তুলে ধরা হয়।মেলায় স্টল সাজানো, বৃক্ষের চারা বিক্রি ও প্রদর্শনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নার্সারিগুলোকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এতে প্রথম স্থান অধিকার করে সুগন্ধা নার্সারি, যার প্রোপ্রাইটর মনোয়ারা বেগম। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সিলেট নার্সারি, যার স্বত্বাধিকারী মলয় লাল ধর। তৃতীয় স্থান যৌথভাবে অর্জন করে সবুজ বন নার্সারি, স্বত্বাধিকারী আবুল হোসেন এবং লিমন নার্সারি, স্বত্বাধিকারী আব্দুর রব। পরে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী নার্সারি মালিকদের হাতে পুরস্কার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ফরেস্ট অফিস মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ মিসবাহ। পবিত্র গীতা পাঠ করেন ফরেস্টার নীলুপাল। মাসব্যাপী এ বৃক্ষ মেলায় ৪০টি নার্সারির স্টলের পাশাপাশি কৃষি যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন খাবারের স্টলও ছিল। মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।