বাগেরহাটের চিতলমারীতে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এতে সাধারণ রোগীদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। প্রতিদিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হচ্ছেন। দরিদ্র রোগীরা তাদের স্বাস্থ্য পরিক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ অবস্থায় ডেঙ্গু দমনে কার্যকরী ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিজ্ঞ মহল।
৩০ আগস্ট রবিবার সকাল ১১ টায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘুরে দেখা দেখা গেছে, জ্বর নিয়ে অসংখ্য শিশু,বৃদ্ধাসহ বিভিন্ন বয়সের রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের স্বাস্থ্য পরিক্ষায় অনেকের শরীরে ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। এতে রোগীরা অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এ অবস্থায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার (৯২) গত ২৬ আগস্ট জ্বর নিয়ে চিতলমারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হন। এরপর তাকে পরীক্ষা করা হলে তার শরীরে ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। এছাড়া দুর্গাপুর গ্রামের কর্ণধর মণ্ডল( ৬৫), উমাজুড়ি গ্রামের বায়োজিদ হোসাইন(৩০), চরবানিয়ারী মুসলিমপাড়ার ছাব্বিসহ অনেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লিনিকে ও বাড়িতে বসে অনেকে ডেঙ্গু রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান অনেকে। গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার উপজেলার পার্শ্ববর্তী সাহসপুর গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী রিয়া মজুমদার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এক দিকে শোকের ছায়া নেমে এসেছে অন্যদিকে ডেঙ্গু আতঙ্ক বিরাজ করছে অনেকের মধ্যে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আতিয়ার মল্লিক জানান, আগে শহরে ডেঙ্গুর কথা শোনা যেত কিন্তু এখন গ্রামে রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আছেন। এভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকলে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে অভিমত দেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ শর্মি রায় জানান, বর্ষা মৌসুমে এখন জ্বর নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাদের পরিক্ষা করে অনেকের শরীরে ডেঙ্গু ধরা পড়ছে। এসবস রোগীদের বিশেষভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী রয়েছে। ডেঙ্গুর থেকে মুক্ত থাকতে হলে বাড়ির আশপাশ পরিচ্ছন্ন ও কোথাও পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সেজন্য সকলকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।