রংপুরে চার খুন: ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির পরও সিদ্ধার্থ-মুগ্ধকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) : | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
রংপুরে চার খুন: ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির পরও সিদ্ধার্থ-মুগ্ধকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরও মামলার তদন্তে পাওয়া নতুন তথ্য যাচাই-বাছাই ও ক্রসচেক করতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের এ অনুমতি দেওয়া হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রংপুরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২য় (পুলিশ ফাইল) আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম প্রত্যেক আসামিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিন্নাত আলী দুই আসামিকে তিন দিন করে পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। তবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ায় আইনগত বাধ্যবাধকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের পুলিশ হেফাজতে রিমান্ড না দিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

আদালতের কার্যক্রম মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরিচালিত হয়। শুনানিতে আসামিদের পক্ষে জেলা লিগ্যাল এইডের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শ্রী সবুক্তগীন উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর তদন্তে আরও কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই ও আগের তথ্যের সঙ্গে ক্রসচেক করা প্রয়োজন। এ কারণে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আইনগত কিছু বাধ্যবাধকতার কারণে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া আসামিদের সাধারণ রিমান্ডে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়া এবং নতুন তথ্য পাওয়ার বিষয়টি আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন। আদালত আগামী তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি কোতোয়ালি থানার মামলা নম্বর ৪৩, তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৬। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে