রোজার কারণে মার্চে এসএসসি পরীক্ষা, আর পেছাবে না: শিক্ষামন্ত্রী

এফএনএস প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
রোজার কারণে মার্চে এসএসসি পরীক্ষা, আর পেছাবে না: শিক্ষামন্ত্রী

রমজানের কারণে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারি থেকে পিছিয়ে মার্চে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১৪ মার্চ থেকে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। তবে জাতীয় পর্যায়ে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে এই পরীক্ষা আর পেছানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে চীন সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুরুতে ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে তা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলত। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত রমজান থাকায় ওই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “সবকিছু বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসকে এসএসসি পরীক্ষার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় মনে করা হচ্ছে। তবে রমজানের কারণে এবার ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

এর আগে ১৪ মে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হতে পারে। তবে রমজান ও ঈদের সময়ের সঙ্গে পরীক্ষার সময় মিলে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে সমালোচনা হয়। পরে ২ জুন অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্নির্ধারণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২৪ আগস্ট আগামী বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। সেই সূচি অনুযায়ী, তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৪ মার্চ শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।

পরীক্ষা জানুয়ারিতে এগিয়ে আনার উদ্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অনুরোধে বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু এতে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা রিভিউ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকছিল না।

“দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও সিলেবাস শেষ হলেও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা রিভিউ করার পর্যাপ্ত সুযোগ হচ্ছে না। এই রিভিউ প্রক্রিয়াও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, রমজানের পর পরীক্ষা নিলে তা অনেকটা বিলম্বিত হয়ে যায়। আবার জানুয়ারিতে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় কমে যায়। তাই সব দিক বিবেচনা করে রমজানের পর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষা আরও পেছানোর সম্ভাবনা নাকচ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আপাতত পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় পর্যায়ে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে বর্তমানে পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ নেই।”

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগেই পরীক্ষার বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে তারা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, সাধারণত বর্ষা বা বৃষ্টির মৌসুমে এসএসসি পরীক্ষা হওয়ায় বন্যা, ঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরীক্ষা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এ কারণে এসএসসি পরীক্ষাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসএসসির সঙ্গে সমন্বয় করে এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাগুলোকেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষের সঙ্গেও দেশের শিক্ষা কার্যক্রমের সময়সূচি সমন্বয়ের কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

২০২৭ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা পেছানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পরীক্ষা পেছানোর কারণ দেখছেন না।

মন্ত্রী জানান, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়সূচি প্রায় দেড় বছর আগেই জানানো হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে