মানবপাচারের নতুন কৌশল

প্রতিরোধে নজরদারি ও আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি

এফএনএস | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩২ এএম
প্রতিরোধে নজরদারি ও আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি

মানবপাচার বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও এর ধরন এখন ক্রমেই বদলে যাচ্ছে। চাকরি, উন্নত জীবন কিংবা বিদেশে যাওয়ার সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মও পাচারকারীদের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাসে লিবিয়া, কম্বোডিয়া, কেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের পাচার ও জিম্মি করে নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মানবপাচারের পুরোনো রুটগুলোও এখনো সক্রিয়। লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে অন্য দেশে বিক্রি করে দেওয়া কিংবা বিদেশে পাঠানোর নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা মহামারীর মতো বেড়েই যাচ্ছে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন ও আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দিয়ে তরুণদের ফাঁদে ফেলার প্রবণতাও দিনকেদিন বাড়ছে। মানবপাচারের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো নিরাপদ ও বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা এবং দালালনির্ভরতা। দ্রুত বিদেশ যাওয়ার আশায় অনেকে যাচাই-বাছাই ছাড়াই দালালের হাতে টাকা তুলে দেন। পরে ভুয়া কাগজপত্র, অবৈধ যাত্রাপথ কিংবা প্রতারণামূলক চাকরির মাধ্যমে তাঁরা পাচারকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যান। তাই শুধু সীমান্তে নজরদারি বাড়ালেই এ অপরাধ বন্ধ হবে না; বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়োগদাতা, কাজের ধরন, ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ সহজ করতে হবে। মানবপাচার প্রতিরোধে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও আন্তদেশীয় সহযোগিতা। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন শনাক্ত, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং পাচারকারীদের ডিজিটাল যোগাযোগের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে দালালচক্রের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত দ্রুত শেষ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনার পর শুধু আইনি সহায়তা নয়, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে হবে। মানবপাচার এখন আর শুধু সীমান্ত বা দালালচক্রের অপরাধ নয়; প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে এটি একটি আন্তদেশীয় ও সংগঠিত অপরাধে পরিণত হচ্ছে। তাই প্রতিরোধব্যবস্থাকেও সেই অনুযায়ী আধুনিক করতে হবে। নিরাপদ অভিবাসনের পথ সহজ করা, মানুষের সচেতনতা বাড়ানো এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই অপরাধের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।