তানোরে ব্যবসায়ীকে বাড়িতে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ৪

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:২২ পিএম
তানোরে ব্যবসায়ীকে বাড়িতে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ৪
রাজশাহীর তানোরে সুজন রহমান (৩৭) নামের এক ব্যবসায়ীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ১৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় জড়িত নারীসহ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়। তবে, এ ঘটনায় জড়িত আবুল হোসেন ধলু (৪৫) নামের অপর এক অভিযুক্ত প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) আটককৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-জহুরা বেগম (৩৫), বাচ্চু মন্ডল (৩৮), রাজু আহম্মেদ (২৮) এবং তাঁর স্ত্রী সুর্বনা বিবি (২০)। পলাতক আবুল হোসেন ধলু তানোর পৌর এলাকার তাঁতিয়ালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ী সুজন রহমান রাজশাহীর পবা উপজেলা গেটের পশ্চিম পাশে নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তানোরে আসেন সুজন। সেখানে পরিচিত রাজু আহম্মেদ তাঁকে নিজের শ্বশুরবাড়ি দেবীপুর গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। সরল বিশ্বাসে রাজুকে মোটরসাইকেলে নিয়ে দেবীপুর পৌঁছামাত্র পূর্বপরিকল্পিত ভাবে একদল ব্যক্তি সুজনকে জোরপূর্বক একটি ঘরে নিয়ে আটকে ফেলে। সেখানে তাঁর কাছে পৌনে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সুজন অস্বীকৃতি জানালে বাচ্চু মন্ডল তাঁকে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করেন এবং একপর্যায়ে সুর্বনা বিবি তাঁর গলায় ধারালো ছুরি ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরদিন সকালে পুনরায় শারীরিক নির্যাতনের মুখে সুজন তাঁর বিকাশ নম্বরে থাকা টাকা দেওয়ার কথা জানান। এরপর চক্রের সদস্যদের দেওয়া বিভিন্ন নম্বরে তিন দফায় মোট ৮ হাজার ২০০ টাকা পাঠাতে বাধ্য হন তিনি। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে আরও টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে সুজনকে কৃষ্ণপুর বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সুযোগ বুঝে সুজন তাঁর পরিচিত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বাদশাকে ফোনে সংক্ষেপে নিজের বিপদের কথা জানান। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বাদশা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। কল পাওয়ার পরপরই তানোর থানার পুলিশের একটি চৌকস দল দেবীপুর এলাকায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অপহৃত সুজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে হাতেনাতে আটক করে। উদ্ধার শেষে শারীরিক আঘাতের কারণে সুজনকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েপ্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁর প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রের আরেক সদস্য আবুল হোসেন ধলু। এব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আটক চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রা/অ
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে