পবিত্র কাবা শরীফকে স্বাক্ষী রেখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষনা

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
পবিত্র কাবা শরীফকে স্বাক্ষী রেখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষনা

সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে কাবা শরীফকে স্বাক্ষী রেখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন এক সক্রিয় বিএনপি কর্মী। মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামের ওই বিএনপি কর্মী বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি।

একইসাথে তিনি (সাদ্দাম হাওলাদার) বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকেও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। গত ৩১ আগস্ট নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তিনি পবিত্র কাবা শরীফকে স্বাক্ষী রেখে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। এছাড়াও তিনি ওই ভিডিও’র কমেন্টে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস লিখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যা মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

হঠাত করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার এমন সিদ্ধান্তের পিছনে অন্যকোর রহস্য রয়েছে কিনা, সে ব্যাপারে সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে পাঠকদের সুবিধার্থে বিএনপির সক্রিয় কর্মী মো. সাদ্দাম হাওলাদারের স্ট্যাটাসটি হুবাহুব তুলে ধরা হলো। যেখানে তিনি লিখেছেন-”আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় মাতৃভূমি, প্রিয় জন্মভূমি বরিশালের গৌরনদী-আগৈলঝাড়াবাসী আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি সকলে ভালো আছেন, আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে ও আপনাদের দোয়া এবং ভালোবাসায় অনেক ভালো আছি শুকরিয়া আলহামদুলিল্লাহ্।

আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে, বাংলাদেশের বৃহত্তম দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত আমি, আমার পরিবার বাবা ও চাচাসহ বংশের ৯০% সকলেই এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম।

আমি মো. সাদ্দাম হাওলাদার জাতীয় উপ-নির্বাচন কমিটির (সাবেক) সদস্য ও ৪নং মডেল গৈলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক প্রার্থী ও একজন একটিভ সদস্য এবং বর্তমানে আগৈলঝাড়া উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সহ-সভাপতি দায়িত্বরত অবস্থায় আছি।

আপনারা সকলেই জানেন, বর্তমানে আমি একজন সৌদি প্রবাসী ও রেমিটেন্সযোদ্ধা, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি প্রেক্ষাপটে আমার দ্বারা রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আমরা বই পুস্তকে পড়েছিলাম রাজনীতি হল জনগণের সেবা করা, এখন দেখছি ভিন্ন হাজারো কথা/অভিযোগ থাকলেও দলের প্রতি আমার বিন্দু পরিমান কোন অভিযোগ নেই। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি, ভালোবাসি দেশ নায়ক তারেক রহমানের সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে, ভালোবাসি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে।

আমি কোন বড় রাজনীতিবিদ না বা ত্যাগী নেতাকর্মী নয় ,আমার চাইতে হাজারো লক্ষ কোটি নেতাকর্মী এখন দলের কাছে বোঝা ও অবহেলিত। তাই আমি স্ব-সম্মানে সজ্ঞানে বাংলাদেশ নামক সকল রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং পদত্যাগ করলাম।

আজকের পর থেকে আমি কোন দলের সাথে সম্পৃক্ত নয়। আল্লাহতায়ালার ঘর পবিত্র কাবা শরীফকে সামনে রেখে তওবা করলাম, সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন এবং আমার রাজনৈতিক জীবনে যদি জানা/অজানা কাউকে বিন্দু পরিমান কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে আপনাদের কারো ছেলে, ভাই, বন্ধু বা সন্তান হিসেবে ক্ষমা করে দিবেন। আমি সকলের কাছে বিনয়ের সঙ্গে মাফ চাই।

সবশেষে তিনি বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে লিখেছেন-রাজনীতি ছিল আমার আবেগ ও মনের খোড়াক, ভেবে ছিলাম জনগণের সেবা করবো। তবে সেটা রাজনীতি দিয়ে হইলো না, তবে রাজনীতির বাইরে ওযে মানব সেবা করা যায়, সেটা আমি সাদ্দাম প্রমাণ করে দিবে আল্লাহভরসা। বিগতদিনে যেমন অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বদা ছিলাম, ভবিষ্যতে আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহমেদ পান্না বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া সাদ্দাম হাওলাদার কর্মের সুবাধে দীর্ঘদিন থেকে সৌদি আরবে রয়েছেন। কারো সাথে কোনধরনের বিরোধ থেকে সাদ্দাম হাওলাদার ক্ষোভের কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি সাদ্দাম হাওলাদার লিখিতভাবে কোন পদত্যাগপত্র না পাঠিয়ে কি কারণে ফেসবুকে ভিডিও ছেড়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন, সে ব্যাপারেও খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে