লর্ডস টেস্টে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে পাকিস্তান। একাদশে থাকলেও চোটের কারণে এক ইনিংসেও ব্যাটিং করেননি ইমাম উল হক। তৃতীয় টেস্টে দল থেকে বাদ পড়লেও তার বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হাই পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদ। ইমামকে লর্ডস টেস্টের প্রথম দিন চা-বিরতির পর আর ফিল্ডিংয়ে দেখা যায়নি ইমামকে। এরপর আর মাঠে দেখা যায়নি এই ক্রিকেটারকে। কাফ মাসলের চোট থাকায় কোন ইনিংসে ব্যাটিং করেননি এই ক্রিকেটার। ইমামের কঠোর সমালোচনা করে পাকিস্তান সংবাদমাধ্যম জিও সুপারকে আকিব জাভেদ বলেন, ‘ইমামের চোট নিয়ে বড় প্রশ্ন এবং গভীর হতাশা আছে। অতীতে ক্রিকেটাররা চোট পেলেও খেলতেন, প্লাস্টার লাগিয়েও খেলার চেষ্টা করতেন। এটা কীভাবে সম্ভব যে পেশিতে টান লাগার কারণে সে দুই ইনিংসেই ব্যাট করতে পারেনি? তার চেষ্টা করা এবং লড়াই করা উচিত ছিল।’ এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আকিব আরো বলেন, ‘আমরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তাকে তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে। আমি এটা বলতে পারি না যে সে অভিনয় করেছে, কিন্তু পেশিতে ওইরকম টান লাগার কারণে কেউ ব্যাটিং থেকে পুরোপুরি বিরত থাকতে পারে না।’ তৃতীয় টেস্টের দলে একগাদা পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান। ইমামসহ সাতজনকে দেশে ফেরত পাঠানো, প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়াসহ সিরিজের মাঝপথে ব্যাপক রদবদল নিয়েও গোটা ক্রিকেট বিশ্বে পাকিস্তানকে নিয়ে সমালোচনা ও হাসাহাসি চলছে। সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আকিব জানান, সংশ্লিষ্ট সবাইকে বার্তা দেওয়ার জন্য এই কঠোর পদক্ষেপ জরুরি ছিল। তিনি বলেন, ‘দুইটি টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু দল কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেনি। এখনও একটি টেস্ট বাকি আছে। তাদের (ম্যানেজমেন্টের) হাতে একজন পেস অলরাউন্ডার, একজন দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক এবং উবাইদ শাহর মতো একজন ফাস্ট বোলার ছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছিল না। অধিনায়ক (বাবর আজম) এবং কোচের সঙ্গে কথা বলে আমি বলেছিলাম, উবাইদকে দলে নিতে, কারণ অন্য পেসাররা সবাই প্রায় একই গতির বোলার।’ দলে অলরাউন্ডারের ঘাটতির পাশাপাশি দল নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমাদের প্রথম সাতজন বোলারের মধ্যে কেউই ব্যাটসম্যান নয়। তাই একজন অলরাউন্ডার দলে নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল উবাইদ শাহকে নেওয়া, যে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করে। এরকম একজন ফাস্ট বোলার দলের বোলিং আক্রমণের গঠনই বদলে দেয়।’ পিসিবির বিভিন্ন দায়িত্বে কাজ করা আকিব দায় দিয়েছেন ম্যানেজমেন্টের উপর। তিনি বলেন, ‘সঠিক কম্বিনেশনে খেলানোর জন্য বার্তা পাওয়ার পরেও যখন আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না (সেটাই সমস্যা)। আপনার অধিনায়ক, প্রধান কোচ এবং ম্যানেজমেন্টের কিছু দায়িত্ব থাকে।’ সরফরাজের পরিবর্তে টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে। তাকে নিয়েও আলোচনা থাকলেও তার ওপর আপাতত আকিবের আস্থা প্রবল। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, হেসন গিয়েও তৃতীয় টেস্টে রাতারাতি বড় কিছু করতে পারবেন না।